তীব্র দাবদাহে এক স্কুপ আইসক্রিম বা এক টুকরো চকোলেটই ছিল পরম তৃপ্তি। কিন্তু সেই স্বস্তিতেও এবার ভাগ বসাতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিঘ্নিত বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আপনার প্রিয় আইসক্রিম ও চকোলেটের ওপর। কাঁচামালের দাম বাড়ায় এবার পকেটে বাড়তি টান পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের।
কেন বাড়ছে দাম?
আইসক্রিম ও চকোলেটের স্বাদ বাড়াতে যে সমস্ত উপকরণ প্রয়োজন, তার সিংহভাগই আসে বিদেশ থেকে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাবে:
ড্রাই ফ্রুটস: বাদাম, কাজু ও পেস্তার দাম গত দু’মাসে ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোকো ও হ্যাজেলনাট: চকোলেটের প্রধান উপাদান কোকোর সরবরাহ তলানিতে। অন্যদিকে, তুরস্ক থেকে আসা হ্যাজেলনাটের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
পরিবহন খরচ: সমুদ্রপথ অনিরাপদ হওয়ায় অনেক পণ্য আকাশপথে আনতে হচ্ছে, যা খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিপাকে নামী ব্র্যান্ডগুলো
মাদার ডেয়ারি থেকে শুরু করে দিনশ’স বা পাসকাটি— বড় বড় সংস্থাগুলো এখন উভয়সংকটে। মাদার ডেয়ারির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়তীর্থ চারি জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু আইসক্রিমের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। কোম্পানিগুলোর দাবি, গরমে গুণমানের সঙ্গে আপস না করে পণ্যের এমআরপি (MRP) বাড়ানো ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।
যুদ্ধের ‘সাইড এফেক্ট’ প্যাকেজিংয়েও
সংঘাতের আঁচ শুধু খাবারের উপকণ্ঠেই সীমাবদ্ধ নেই। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় প্লাস্টিক গ্র্যানিউলের দাম চড়েছে, যার ফলে আইসক্রিম ও চকোলেটের প্যাকেজিং সামগ্রী ও থার্মোকল বক্সের খরচও বেড়ে গেছে। ওয়াকো ফুড কোম্পানির মতে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম আরও বাড়লে পরিবহন খরচ পণ্যমূল্যকে আরও উস্কে দেবে।
বাজারদর কী বলছে?
দিল্লির পাইকারি বাজার চাওরি বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, আফগানিস্তান, ইরান এবং আমেরিকা থেকে আসা শুকনো ফলের আমদানি খরচ ও বিমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরো বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সারা দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর একটু মিষ্টি মুখে দিতে গেলেও এখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রাখতে হবে মধ্যবিত্তকে। আগামী এক-দুই মাসে এই দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই বললেই চলে।





