ভোটের সকালেই রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্র খানাকুল! আইএসএফ প্রার্থীর ‘অ্যাকশনে’ পালালো ভুয়ো এজেন্ট?

ভোটের শুরুতেই চরম উত্তপ্ত আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত খানাকুল। সোমবার সকাল থেকেই রাজহাটি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামচন্দ্রপুরের ১৪৭ নম্বর বুথ চত্বর যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ভুয়ো পোলিং এজেন্ট বসানোকে কেন্দ্র করে আইএসএফ (ISF) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা এলাকা।

সংঘর্ষের সূত্রপাত:
তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ নেতৃত্ব। তাদের দাবি, আইএসএফ-এর পোলিং এজেন্টের আসল ফর্ম নকল করে তৃণমূল নিজেদের লোককে বুথে বসিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ করা হয়েছে যে রবিবার রাত থেকেই আইএসএফ-এর আসল এজেন্টদের ভয় দেখানো হচ্ছিল এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বুথে আসতে বাধা দিচ্ছিল শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নেয়।

মাঠে নেমে সরাসরি অ্যাকশন প্রার্থীর:
বুথে অশান্তি এবং কারচুপির খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান খানাকুলের আইএসএফ প্রার্থী। তিনি কোনো কিছুর পরোয়া না করেই সরাসরি ১৪৭ নম্বর বুথের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে বসে থাকা তথাকথিত ‘ভুয়ো’ এজেন্টকে নিজেই শনাক্ত করেন এবং হাতেনাতে ধরে বুথ থেকে বের করে দেন। প্রার্থীর এই সরাসরি ‘অ্যাকশনে’ রীতিমতো হকচকিয়ে যায় তৃণমূল শিবির। এর পরপরই বুথের বাইরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল ধাক্কাধাক্কি ও গালিগালাজ শুরু হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
ভোটের ডিউটিতে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে অন্য দলের ফর্ম জাল করে ভুয়ো এজেন্ট বসানো সম্ভব হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আইএসএফ। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আইএসএফ সস্তায় প্রচার পেতে ভিত্তিহীন নাটক করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ করছেন। তবে এলাকা এখনো থমথমে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy