ভোটের মুখে বঙ্গে মেগা অপারেশন! কমিশনের নির্দেশে শ্রীঘরে ১৯৯ দাগি অপরাধী, কাঁপছে আন্ডারওয়ার্ল্ড

বাংলার ভোট মানেই সন্ত্রাস আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ— এই চেনা ছবিটা এবার বদলে দিতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রাক্কালে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশাল ধরপাকড়। কমিশনের কড়া নির্দেশে গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে এখনও পর্যন্ত ১৯৯ জন দাগি অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের খাতায় ‘হিস্ট্রি শিটার’ বা ইতিহাস-খ্যাত হিসেবে পরিচিত এই দুষ্কৃতীদের নির্বাচনের আগে খাঁচায় পুরে শান্তি নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন।

কমিশনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের ময়দানে কোনো ধরনের পেশীশক্তি বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। এই গ্রেফতারি মূলত সেই নির্দেশেরই প্রতিফলন।

  • নির্দিষ্ট তালিকা: প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে দাগি অপরাধীদের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকা মিলিয়েই এই মেগা ধরপাকড় চলছে।

  • অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার: গ্রেফতারের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং মাদক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

  • জামিন অযোগ্য পরোয়ানা: যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জামিন অযোগ্য পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) জারি ছিল, তাদের খুঁজে বের করতে প্রতিটি থানায় স্পেশাল ড্রাইভ চালানো হচ্ছে।

টার্গেটে কোন এলাকাগুলো?

সূত্র মারফত জানা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলো যেখানে রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস রয়েছে, সেখানে ধরপাকড়ের গতি সবথেকে বেশি। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকেও বেশ কিছু পুরনো অপরাধীকে তুলে আনা হয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে কড়া পাহারা

১৯৯ জন দাগি অপরাধীকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি বহু দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। যারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত, তাদের প্রতিদিন থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই কড়াকড়িতে যেমন সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে, তেমনই চাপে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর বাহুবলী নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ কি পারবে বাংলায় হিংসামুক্ত ভোট উপহার দিতে? আপনার কী মনে হয়? কমেন্টে জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy