ভোটের মুখে তপ্ত বাংলা! সিবিআই-ইডি-এনআইএ প্রধানদের নিয়ে বিশেষ ছক? বিস্ফোরক দাবি তৃণমূলের

২০২৬-এর প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বাংলার রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বিস্ফোরক অভিযোগ। ভোটের ঠিক আগে রাজ্যকে অস্থির করে তুলতে কেন্দ্রীয় স্তরে একটি “১৫০ ঘণ্টার পরিকল্পনা” নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। শাসকদলের এই দাবি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও তৃণমূলের আশঙ্কা:
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা সিবিআই, ইডি এবং এনআইএ—দেশের এই তিন প্রধান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অধিকর্তাদের। ডেরেকের অভিযোগ, এই বৈঠকের পরবর্তী ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রশাসনিকভাবে কোণঠাঁসা করতে এবং রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করতে কিছু “অসৎ ও চক্রান্তমূলক পদক্ষেপ” নেওয়া হতে পারে।

গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের অভিযোগ:
ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য, “এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে হাতিয়ার করে নির্বাচনের ময়দান প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি।” যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনও অকাট্য প্রমাণ তিনি পেশ করেননি, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে একে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপির পাল্টা ও রাজ্যের পরিস্থিতি:
বিজেপি শিবির এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভয় থেকে জন্ম নেওয়া প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এদিকে রাজ্যে ইডি-র তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। আইপ্যাক কর্ণধার বিনেশ চান্দেল এবং সান গ্রুপের জয় কামদারের গ্রেফতারির পর গতকালই প্রাক্তন সাংসদ নুসরাত জাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ইডি-সিবিআই তৎপরতা আর তৃণমূলের ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্বের লড়াইয়ে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy