ভোটের ময়দানেও ‘বাঙালি আবেগ’! নববর্ষে মোদীর অরাজনৈতিক বার্তায় কি নয়া কৌশল?

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই তালিকায় শ্রেষ্ঠ উৎসব পয়লা বৈশাখকে ঘিরে এবার বাংলার রাজনীতির দুই মেরু দুই ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজলেও বাঙালির প্রাণের উৎসবে রাজনীতির কাদা ছোঁড়াছুড়ি থেকে সযত্নে নিজেকে দূরে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে, নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তার আড়ালেই ‘দিল্লির জমিদারদের’ বিঁধে নির্বাচনী সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন সকালে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় পশ্চিমবঙ্গবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তায় ছিল সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের ছোঁয়া। মোদী লেখেন, “নতুন বছরে সকলের কামনা পূরণের প্রার্থনা করি। আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সদা বিরাজমান থাকুক।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে বাঙালি সংস্কৃতি ও সভ্যতার জয়গান গেয়ে প্রধানমন্ত্রী কৌশলে বাংলার মানুষের মন জেতার চেষ্টা করেছেন, যেখানে কোনো রাজনৈতিক আক্রমণের ছিটেফোঁটাও ছিল না।

তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেজাজ ছিল একদম আলাদা। ভিডিও বার্তায় রবীন্দ্রনাথের ‘এসো হে বৈশাখ’ গানে নতুন বছরকে আবাহন জানালেও তাঁর বক্তৃতায় ফিরে এল বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ। রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি বিজেপিকে ‘অশুভ শক্তি’ ও ‘স্বৈরাচারী’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “দিল্লির জমিদাররা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে।” শুধু তাই নয়, নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তার শেষে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ‘জোড়াফুল’ চিহ্নে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আবেদনও জানান তিনি। উৎসবের দিনেও প্রধানমন্ত্রীর ‘সফট পাওয়ার’ বনাম মুখ্যমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক লড়াই’ এখন বাংলার চায়ের আড্ডার মূল আলোচ্য বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy