ভোটের আগে বাইক চলাচলে ‘ব্রেক’! হাইকোর্টে কমিশনের দাপুটে যুক্তি, কী হলো মামলার চূড়ান্ত রায়?

রাজ্যের ভোটে ‘বাইক বাহিনী’র দাপট রুখতে প্রথম থেকেই অনড় নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ভোট শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর যে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। শুক্রবার সেই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি শেষ হলো।

কমিশনের ‘বজ্রকঠিন’ যুক্তি: আদালতে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা স্পষ্ট জানান যে, ভোটের সময় হিংসা ছড়ানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো মোটরসাইকেল। ছোট গলি বা ঘিঞ্জি এলাকা দিয়ে দুষ্কৃতীরা বাইকে করে এসে ভোটারদের ভয় দেখায় এবং মুহূর্তের মধ্যে গা ঢাকা দেয়। তাই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বাইক চলাচলে এই নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। কমিশনের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে এই সাময়িক ‘কঠোরতা’ মেনে নিতেই হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্ট জানিয়েছে, নিরাপত্তার প্রয়োজনে কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে সেই নির্দেশের জালে যেন কোনো সাধারণ নাগরিক বা জরুরি পরিষেবা (যেমন: ডাক্তার, নার্স, সংবাদমাধ্যম বা ডেলিভারি বয়) আটকে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে। মামলার শুনানি শেষ হলেও আদালত স্পষ্ট করেছে যে, কমিশনের জারি করা গাইডলাইন যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে যাতে ভোটের দিন কোনো অশান্তি না হয়।

কী কী বিধিনিষেধ থাকছে?

  • বাইক র্যালি নিষিদ্ধ: ভোটের তিন দিন আগে থেকে কোনো রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্যে বাইক মিছিল করা যাবে না।

  • ডাবল রাইডিংয়ে নজর: ভোটারদের বুথে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে এক বাইকে একাধিক ব্যক্তি যাতায়াত করলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হবে।

  • পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক: জরুরি কাজে বাইক ব্যবহার করলে বৈধ পরিচয়পত্র বা উপযুক্ত কারণ দেখাতে হবে।

উপসংহার: হাইকোর্টে শুনানি শেষ হওয়ার পর এটা স্পষ্ট যে, ভোটের দিনগুলোতে রাজপথে বাইক নিয়ে দাপাদাপি করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। এখন দেখার বিষয়, কমিশনের এই কড়াকড়ি বীরভূম বা কোচবিহারের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে কতটা ফলপ্রসূ হয়।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy