বৃহস্পতিবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে আমডাঙার সভা থেকে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া— একাধিক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
“রাফাল বাদে সব নামিয়ে দিয়েছে!”
এ দিন মমতার বক্তৃতায় প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলায় মোতায়েন হওয়া বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী। তিনি দাবি করেন, দিল্লি থেকে প্রায় ২ লক্ষ বাহিনী আনা হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন:
“শুধু রাফাল বিমানটা বাকি আছে, বাকি সব নামিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের সাঁজোয়া গাড়ি এখানে কেন? মানুষকে এত ভয় কিসের? আপনারা কি গুলি চালাবেন? মানুষকে হত্যা করবেন? মনে রাখবেন, ভোট গণতন্ত্রের উৎসব, যুদ্ধ নয়।”
কোলাঘাটে ‘অবরোধ’, ভোটারদের ফেরার পথ বন্ধ?
মঙ্গলবার থেকে কোলাঘাটের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, এভাবে রাস্তা ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে বাইরে কাজ করতে যাওয়া হাজার হাজার শ্রমিক ভোট দিতে ফিরবেন কী করে? এমনকী সংবাদমাধ্যমকেও সেখানে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের কড়া বার্তা
রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের (IAS, IPS, WBPS) নিরপেক্ষ থাকার পরামর্শ দিয়ে মমতা বলেন, “আপনারা কারও কথায় নাচবেন না। আপনাদের একটা সম্মান আছে। বিজেপির বড় বড় অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে শুধু কি তৃণমূলকে টার্গেট করাই আপনাদের কাজ?” এদিন সরাসরি বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-এর নাম নিয়ে তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
১ হাজার জনকে গ্রেফতার ও ৯ হাজার জনকে ‘হজ’ পাঠানোর ছক!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি:
তৃণমূলের ১ হাজার কর্মীর নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য।
ধর্মীয় আবেগ কাজে লাগিয়ে ৯ হাজার ভোটারকে ভোটের দিন হজে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে তাঁরা ভোট দিতে না পারেন।
ভোটারদের প্রতি তাঁর আর্জি, “আপনারা হজ কমিটি মারফত হজে যান, কিন্তু দয়া করে ভোটটা দিয়ে যাবেন।”
স্লিপ বিভ্রাট ও ভোটারদের পরামর্শ
বিএলও (BLO)-দের মাধ্যমে ভোটার স্লিপ বিলি নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে মমতা কর্মীদের নির্দেশ দেন, যদি সরকারিভাবে স্লিপ না পৌঁছায়, তবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট চেক করে দলীয়ভাবে স্লিপ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে। ভোটার কার্ড নিয়ে সবাইকে বুথে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।





