পেটের দায়ে ভিটে ছেড়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু অস্তিত্ব রক্ষার টানে এবার ঘরের ছেলে ঘরে ফিরছে। হাতে কাজ থাকুক বা না থাকুক, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের ভোট দিতে মরিয়া হয়ে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। মুম্বইয়ের সোনার দোকান থেকে দিল্লির অভিজাত আবাসনের পরিচারিকা— সকলের চোখেমুখেই এখন এক অজানা আশঙ্কার ছাপ। লক্ষ্য একটাই, ভোটার তালিকায় নিজের নামটুকু বজায় রাখা।
ভয়টা ঠিক কোথায়?
বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে এখন সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম ‘SIR’। তাঁদের মনে জেঁকে বসেছে এক গভীর ভীতি— যদি এবার ভোট না দেওয়া হয়, তবে হয়তো ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। আর নাম কাটা গেলেই নাগরিকত্ব হারিয়ে ‘বিদেশি’ হয়ে যাওয়ার ভয়।
টিকিট নেই, তাও যাত্রা:
পূর্ব দিল্লির ডাল্লুপুরার বাসিন্দা পোড্ডা, যিনি পেশায় একজন গৃহকর্মী। তিনি জানান, “ট্রেনের টিকিট ওয়েটিংয়ে আছে, কনফার্ম হবে কি না জানি না। তাও আমরা ৮ জনের পরিবার রওনা দিচ্ছি। কাজ গেলে যাক, নাগরিকত্ব তো বাঁচাতে হবে!” শুধু পোড্ডা নন, দক্ষিণ দিনাজপুরের এমন শয়ে শয়ে মানুষ এখন দিল্লি-মুম্বইয়ের রেলস্টেশনে ভিড় জমিয়েছেন। ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকে বেসরকারি বাসের ব্যবস্থা করছেন।
রাজনৈতিক বার্তার প্রভাব:
পরিযায়ীদের এই গণ-প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রচারের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাগাতার বার্তা, “ভোট না দিলে এনআরসি এনে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে,” শ্রমিকদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রচার এই ভীতিকে আরও উসকে দিয়েছে।
অন্যান্য কারণ:
গয়না প্রস্তুতকারক ইকরামুল হক শেখের দাবি, শুধু ভোট নয়, এলপিজি গ্যাসের ঘাটতির কারণেও অনেক কারখানায় কাজ কমেছে। ফলে মালিকপক্ষের পক্ষেও শ্রমিকদের আটকে রাখা কঠিন হচ্ছে। তাঁর কারখানার ৪০ জন কারিগরের অর্ধেকই টিকিট না পেয়েও বাসে চেপে বাংলার পথে রওনা দিয়েছেন।
কেন এই জেদ?
অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা এই শ্রমিকদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ কেবল সরকার গড়ার লড়াই নয়, বরং নিজেদের ‘অস্তিত্ব’ প্রমাণের লড়াই। বড় শহরের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো মনে করছেন, ভোট দিয়েই তাঁরা প্রমাণ করবেন— তাঁরা এই দেশেরই ভূমিপুত্র।





