গণতন্ত্রের উৎসবে এবার কোনো রকম কারচুপি বরদাস্ত করবে না নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরিচয় গোপন করে বা অন্য কারও হয়ে ভুয়ো ভোট (Fake Vote) দিতে গেলেই কড়া শাস্তি এবং জেল হতে পারে। বুথে বুথে কারচুপি রুখতে এবার প্রযুক্তির ঢাল ব্যবহার করছে কমিশন।
বুথে বুথে ‘ওয়েবকাস্টিং’ নজরদারি
কমিশন সূত্রে খবর, এবার প্রতিটি বুথে নিশ্ছিদ্র নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগের মতো শুধু পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, এবার নজরদারি চলবে আকাশপথেও নয়, বরং ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি।
লাইভ ওয়েবকাস্টিং: রাজ্যের অধিকাংশ বুথেই এবার ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে দিল্লিতে বসে কমিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সরাসরি দেখতে পাবেন বুথের ভেতরে কী ঘটছে।
সিসিটিভি ক্যামেরা: প্রতিটি বুথের প্রবেশপথ এবং ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বারবার ভেতরে ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যান।
ভুয়ো ভোটারদের জন্য কী বার্তা?
কমিশন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি জাল পরিচয়পত্র বা অন্যের নামে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁকে তৎক্ষণাৎ আটক করা হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী এই অপরাধে কড়া জরিমানা এবং জেল হেফাজত দুই-ই হতে পারে।
নিরাপত্তায় থাকছে আরও যা যা:
মাইক্রো অবজারভার: প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বুথে নজরদারির জন্য থাকছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক।
ভোটার আইডি কার্ড যাচাই: পরিচয়পত্র বা ভোটার স্লিপ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এবার আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে। আঙুলের অমোচনীয় কালির ব্যবহার নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে ভোটকর্মীদের।
নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে বুথে গিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ‘সেফটি নেট’ ছিঁড়ে কোনো অশুভ শক্তি যেন ভোট লুট করতে না পারে, তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে কুইক রেসপন্স টিমও (QRT)।





