ভুয়ো পরিচয়ে নার্স সেজে ৪,৫০০ রোগীর চিকিৎসা, অবশেষে হলেন গ্রেপ্তার

নার্স সেজে প্রায় ৪,৫০০ রোগীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে ফ্লোরিডার এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৯ বছর বয়সী ওই নারীর নাম অটাম বারডিসা। তার বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং প্রতারণার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর খবর জানিয়েছে।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অটাম বারডিসা নিজেকে একজন নিবন্ধিত নার্স হিসেবে পরিচয় দিয়ে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্ল্যাগলারের অ্যাডভেন্টহেলথ পাল্ম কোস্ট পার্কওয়ে হাসপাতালে চাকরি করেছেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ৪,৪৮৬ জন রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন। তার এই জালিয়াতি ধরা পড়ে যখন তাকে পদোন্নতির প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, বারডিসা অন্য একজন নার্সের লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করতেন, যার নামের প্রথম অংশের সঙ্গে তার নামের মিল ছিল। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর তিনি তার নাম পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু বিয়ের কোনো বৈধ প্রমাণপত্র দেখাতে তিনি ব্যর্থ হন। তার এই প্রতারণা প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন এক সহকর্মী খেয়াল করেন যে, তার নার্সিং সহকারী লাইসেন্সটি আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এর পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রমাণপত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং তার চুক্তি বাতিল করে।

সাত মাস ধরে চলা তদন্তের পর গত ৫ আগস্ট বারডিসাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়ও তিনি চিকিৎসকের পোশাক পরে ছিলেন। ফ্ল্যাগলার কাউন্টির শেরিফ রিক স্ট্যালি এই ঘটনাকে ‘চিকিৎসা বিষয়ক প্রতারণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এই নারী হাজার হাজার মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।”

বারডিসার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সাতটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শেরিফ পেরি হল ইনমেট ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি আছেন এবং তার জামিনের জন্য ৭০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। শেরিফ অফিস একটি ই-মেইল চালু করেছে, যাতে ওই নারীর দ্বারা চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীরা তথ্য পেতে পারেন। এই ঘটনা পুরো ফ্লোরিডার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy