২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত অসাধ্য সাধন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে ভবানীপুরের হেভিওয়েট লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ভোটে পরাস্ত করা, অন্যদিকে নিজের খাসতালুক নন্দীগ্রামে ১০ হাজারের ব্যবধানে জয়—দুই কেন্দ্রেই পদ্ম ফুটিয়েছেন তিনি। কিন্তু এই জোড়া সাফল্যের মাঝেই এখন বড় প্রশ্ন, বিধানসভায় কোন কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন শুভেন্দু? নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি আসন তাঁকে ছেড়ে দিতেই হবে।
দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শুভেন্দু
বুধবার নন্দীগ্রামে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌঁছতেই দলীয় কর্মীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে দাঁড়িয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, জোড়া আসনে জিতলেও নিয়ম মেনে একটি আসন ছাড়তেই হবে। তবে সিদ্ধান্ত তিনি একা নেবেন না। শুভেন্দুর কথায়, “সব সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি না। আমার পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা যা ঠিক করবেন, সেটাই হবে। আমি দলের একজন শৃঙ্খলাপরায়ণ কর্মী, তাই নেতারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
কোন আসনটি ছাড়তে পারেন?
রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা, শুভেন্দু কি তবে নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুরকেই বেছে নেবেন? ভবানীপুর রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত, আর সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে হারানো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর আবেগ জড়িয়ে। জল্পনার মাঝেই এদিন নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “হলদিয়া আর নন্দীগ্রামকে জুড়ে দেব। গোকুলনগরের হাসপাতাল এমনভাবে তৈরি হবে যাতে কাউকে রেফার করতে না হয়। ৬ মাসের মধ্যে জলের সংযোগ পৌঁছে দেব।”
নন্দীগ্রামে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ স্লোগান
শুভেন্দু যখন নন্দীগ্রামে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে থেকে বারবার দাবি ওঠে— “আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী চাই”। শাহের বেঁধে দেওয়া মাপকাঠিতে শুভেন্দু কতটা সফল, তা নিয়ে যখন চর্চা চলছে, তখন কর্মীদের এই দাবি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শুভেন্দু অবশ্য বরাবরের মতোই জানিয়েছেন, তিনি কর্তব্যে অবিচল থাকবেন। এলাকার মন্দির, স্কুল উন্নয়ন থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান—সবক্ষেত্রেই তাঁকে পাশে পাওয়া যাবে বলে কথা দিয়েছেন তিনি।
এখন দেখার, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুভেন্দুকে ভবানীপুরের ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজ ধরে রাখতে বলে নাকি নিজের ঘরের মাঠ নন্দীগ্রামকেই আঁকড়ে থাকতে পরামর্শ দেয়। আগামী কয়েক দিনেই কাটবে এই ধোঁয়াশা।





