২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের পর থেকেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। জয়ের বদলে ‘ভোট লুট’ ও ‘ষড়যন্ত্র’-এর যে তত্ত্ব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খাড়া করেছেন, এবার তা নিয়েই তাঁকে তীব্র আক্রমণ শানাল বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরাজয় স্বীকার করার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) কাঠগড়ায় তোলাটা এখন মমতার ‘অভ্যাসে’ পরিণত হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, তিনি এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই রায় মানুষের জনাদেশ নয়, বরং বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একটি বড় ‘ষড়যন্ত্র’। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এই নির্বাচনের ‘ভিলেন’ হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমেই বিজেপি এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
বিজেপির পাল্টা তোপ: মমতার এই অভিযোগের কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে হাস্যাস্পদ করে তুলছেন। হেরে গেলেই নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেওয়া ও পরাজয়ের কারণ অন্যের ওপর চাপানো ওঁর পুরনো অভ্যাস।” তিনি আরও যোগ করেন, হারের ধাক্কা সামলাতে না পেরে মমতা এখন সংবাদ শিরোনামে থাকার জন্য এই ধরণের ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন।
রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা: বিজেপির দাবি, মানুষ এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় মেনে নিতে নারাজ হওয়ায় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির মতে, ৯ মে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
পরাজয়ের গ্লানি নাকি কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াকু মেজাজ—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





