বাংলায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটতেই রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। জনতা জনার্দন কাকে বেছে নিয়েছে তা ইভিএম বন্দি থাকলেও, ফল প্রকাশের আগেই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী বিজেপি শিবির। বৃহস্পতিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক সব দাবি করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েই বুথে গিয়েছেন।
দিলীপ ঘোষ এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া হিসাব টেনে বলেন, “প্রথম দফায় ১১০টি আসন আমাদের নিশ্চিত। দ্বিতীয় দফায় কলকাতায় যে ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে, তা ঐতিহাসিক। এই বিপুল ভোটদানই বলে দিচ্ছে মানুষ আর বর্তমান সরকারকে চাইছে না। পরিবর্তনের হাওয়া গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্র বইছে।” আসন সংখ্যা নিয়ে সরাসরি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী না করলেও তাঁর সাফ কথা, “সংখ্যা বলা এই মুহূর্তে বুদ্ধিমানের কাজ নয়, তবে আমরা এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসছি যে আর পিছন ফিরে তাকাতে হবে না। বুক ফুলিয়ে সরকার চালানোর মতো মেজরিটি আমরা পাচ্ছিই।”
অন্য দল থেকে বিধায়ক ভাঙানোর জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বিজেপি এবার নিজের ক্ষমতায় সরকার গড়বে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আসতে চায়, তাকে সসম্মানে গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা এবং মন্ত্রীদের নাম নিয়ে যে চর্চা চলছে, তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ এই বিজেপি নেতা। তিনি টিপ্পনি কেটে বলেন, “আমি ফেসবুকের বদলে ফেস টু ফেস-এ বেশি বিশ্বাসী। কিছু মানুষ ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকার গড়ে দেয়, তাদের সঙ্গে বাস্তবের কোনো যোগ নেই।”
নিজের মন্ত্রী হওয়া বা পছন্দের দপ্তর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তাঁর কথায়, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্ত্রীত্বের লোভে নেই। আমার প্রথম লক্ষ্য হলো রাজ্যে সরকার পরিবর্তন। বাংলার মানুষ আগে মুক্তি পাক, মন্ত্রিসভা নিয়ে ভাবার জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। কাল রাত থেকেই রাজ্যের আবহাওয়া বদলে গিয়েছে, এবার সরকারের বদলটাও স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।” মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতার এদিনের মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।





