‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর আধিপত্যের অবসান? পাপিয়া অধিকারীর হুঙ্কারের পরের দিনই তপ্ত টেকনিশিয়ান স্টুডিও!

টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে বৃহস্পতিবার যা ঘটল, তা নিঃসন্দেহে টলিউডের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়। নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার বৈঠক ঘিরে তৈরি হলো চরম অশান্তি। ফেডারেশনের ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক মহম্মদ হাসান এবং সহ-সম্পাদক বাবাইকে পদ থেকে সরানোর দাবিতে সরব হন টেকনিশিয়ানদের একাংশ। স্টুডিওর পাশের মাঠে আয়োজিত বৈঠক মুহূর্তেই পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। হাসান ও বাবাইয়ের সমর্থকদের লক্ষ্য করে শুরু হয় ‘চোর চোর’ স্লোগান, এরপরেই পালটা ইট এবং ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।

ঠিক কী কারণে এই অশান্তি? ক্ষুব্ধ টেকনিশিয়ানদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেশনের অন্দরে চলা ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অনিয়ম সহ্য করার মতো নয়। হাসান এবং বাবাইকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার কথা বলা হলেও, তাঁরা তা অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্যান কালচার’ চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন কলাকুশলীরা। টেকনিশিয়ানদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে শিল্পীদের ওপর যে স্বৈরাচার চলছে, তার বিরুদ্ধেই আজ তাঁরা পথে নেমেছেন।

এই ঘটনার ঠিক একদিন আগেই পাপিয়া অধিকারী টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে এসে টলিউডকে ‘এক ছাতার তলায়’ আনার ডাক দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ২৬টি গিল্ডের পরিবর্তে মাত্র তিন-চারটি বিভাগ থাকবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন নিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন করে সাজানো হবে। পরিচালকদের অবমাননা এবং কলাকুশলীদের শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে পাপিয়া বলেন, “পরিচালকই হলেন ক্যাপ্টেন, আর এতদিন তাঁদের চাকর-বাকর করে রাখা হয়েছিল, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” কর্মহীন, অবসাদগ্রস্ত এবং শোষিত কর্মীদের তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন নতুন পথ দেখানোর।

কিন্তু পাপিয়া অধিকারীর এই নতুন গড়ার আহ্বানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যেভাবে ইট-বৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা ঘটল, তাতে প্রশ্ন উঠছে ফেডারেশনের অন্দরের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে। পুলিশের কাছে এত বড় জমায়েতের সঠিক আগাম তথ্য ছিল না বলেই খবর। যদিও ঘটনার পর পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে, কিন্তু টলিউডের টেকনিশিয়ানদের ক্ষোভের আগুন যে ক্রমশ দাউদাউ করে জ্বলছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, পাপিয়া অধিকারীর সংস্কারের এই পরিকল্পনা কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের এই জঞ্জাল পরিষ্কার করা আদৌ সম্ভব কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy