সোনা কিনবেন না কি আরও কিছুটা অপেক্ষা করবেন? এই প্রশ্নটিই এখন দেশের কোটি কোটি মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক নজিরবিহীন আবেদন— সব মিলিয়ে সোনা ও রুপোর বাজার এখন প্রবল অনিশ্চয়তার মুখে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ না কি উদ্বেগের কারণ?
গত ১০ মে হায়দরাবাদের এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীকে আগামী এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে এবং দেশীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে তাঁর এই মন্তব্য গয়না শিল্পে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)-র মতে, ভারতের মতো দেশে যেখানে বছরে ৭০০-৮০০ টন সোনা ব্যবহৃত হয়, সেখানে এই আহ্বানে চাহিদাতে ব্যাপক পতন আসতে পারে। বিশেষ করে বিয়ের মরসুমে ক্ষুদ্র কারিগর ও গয়না ব্যবসায়ীরা এখন বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় দিন গুনছেন।
বিশ্ববাজারের উত্তাপ ও ট্রাম্পের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক রাজনীতিও সোনার দামকে প্রভাবিত করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে যাওয়ার আশা কার্যত ধূলিসাৎ হয়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪,৭২১ ডলার।
আজকের বাজার দর: এক নজরে
সপ্তাহের শুরুতে দেশের বড় শহরগুলোতে সোনার দামে সামান্য পতন দেখা দিলেও গত এক সপ্তাহে দর বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।
দিল্লি: ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫২,২৮০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৩৯,৬০০ টাকা।
কলকাতা ও মুম্বই: ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫২,১৩০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৩৯,৪৫০ টাকা।
চেন্নাই: দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি দাম এখানে। ২৪ ক্যারেট ১,৫৩,৮২০ টাকা এবং ২২ ক্যারেট ১,৪১,০০০ টাকা।
রুপোর বাজারে বড় পতন
সোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও বড় ওঠানামা দেখা গেছে। ১১ মে সকালে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ২,৭৫,০০০ টাকায় নেমে এসেছে। গত এক সপ্তাহে রুপোর দর প্রায় ১০,০০০ টাকা কমেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রুপোর দাম রেকর্ড ৪ লক্ষ টাকার গণ্ডি স্পর্শ করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
গয়না ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিটিআই-এর মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের ফলে টাইটান, সেনকো গোল্ড বা কল্যাণ জুয়েলার্সের মতো সংস্থার শেয়ার দরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ মনে করছেন, চাহিদায় টান পড়লে আগামী দিনে সোনার দামে বড় পতন দেখা যেতে পারে। তাই যারা বড় অংকের বিনিয়োগ বা গয়না কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য পরবর্তী কয়েকটা দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





