বাংলার জনপ্রিয় কবি ও গীতিকার শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি হওয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সমাজমাধ্যমে কবি নিজেই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। তবে এই পরোয়ানা কি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে? ধোঁয়াশা কাটাতে মুখ খুলল কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মহল।
কমিশন নয়, পরোয়ানা আদালতের
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই গ্রেফতারি পরোয়ানা তারা জারি করেনি। মূলত এটি আদালতের দীর্ঘদিনের একটি বিচারাধীন মামলার ফল। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, শ্রীজাতর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘এক্সিকিউশন অফ অ্যারেস্ট’ (WA) স্টেজ শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের আগে নিরাপত্তার খাতিরে যাদের নামে পুরনো গুরুতর অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট থাকে, তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সূত্রেই ২১ নম্বর এসিজেএম আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এই গ্রেফতারি পরোয়ানা?
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৭ সালে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথ শপথ নেওয়ার পর শ্রীজাত তাঁর ফেসবুক ওয়ালে ‘অভিশাপ’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে লেখা সেই কবিতার শেষ দুই লাইনে একটি ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে কন্ডোমের তুলনা করা হয়েছিল।
এই শব্দপ্রয়োগ ঘিরেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ‘হিন্দু সংহতি’ সহ একাধিক সংগঠন অভিযোগ তোলে যে, শ্রীজাত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছেন। শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় অর্ণব সরকার নামে এক যুবক শ্রীজাতর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আদালত ও আইনি জটিলতা
যদিও সেই সময় কলকাতা হাইকোর্ট শিল্পীর বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে মামলা খারিজের আবেদন বিবেচনা করেছিল এবং তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। মাঝে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আদালতের রেকর্ডে মামলাটি সক্রিয় ছিল। শ্রীজাত সেই সময় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় বা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার না করায় আইনি প্রক্রিয়াটি ঝুলে ছিল, যা নির্বাচনের মুখে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল।
বর্তমানে শ্রীজাত নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার খবরটি ১০০ শতাংশ সত্যি। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাকি আইনি বাধ্যবাধকতায় এই পদক্ষেপ, তা নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে।





