রাজস্থানের সীমান্ত জেলা বারমেরের শিব বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অসহায় পরিবারের চোখের জল গত ১২০ দিনেও শুকায়নি। চার মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছরের কিশোরীর কোনো হদিস দিতে পারেনি প্রশাসন। পুলিশের ফাইলগুলোতে যখন ধুলো জমছে, তখন এই স্পর্শকাতর মামলায় শিবের জনপ্রিয় বিধায়ক রবীন্দ্র সিং ভাটির আকস্মিক প্রবেশে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।
ঘটনাটি শিব অঞ্চলের গাওয়ারিয়া সম্প্রদায়ের। চার মাস আগে অর্থাৎ ১২০ দিন আগে পরিবারের কোল খালি করে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা। পরিবারের অভিযোগ, তারা গত চার মাস ধরে থানা থেকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন। দিনের পর দিন আবেদন-নিবেদন করা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মেয়ের চিন্তায় পরিবারটির রাতের ঘুম ও মনের শান্তি চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, গাওয়ারিয়া সম্প্রদায়ের মতো পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর আবেদনকে গুরুত্ব দেয়নি পুলিশ প্রশাসন।
পরিবারের এই চরম হতাশার মুহূর্তে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বিধায়ক রবীন্দ্র সিং ভাটি। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের করুণ অবস্থার কথা জানান। বিষয়টি শোনার পর বিধায়ক ভাটি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, একটি ১৪ বছরের মেয়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
বিধায়কের হস্তক্ষেপে এখন পুলিশের অন্দরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবীন্দ্র সিং ভাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি মামলার অগ্রগতি না হয় এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করা না যায়, তবে তিনি বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তাঁর এই রণংদেহি মেজাজ দেখে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন তড়িঘড়ি ফাইল খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গাওয়ারিয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন এখন বিধায়কের ওপর ভরসা রাখছেন। এই সীমান্ত জেলায় নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনাটি এখন কেবল একটি অপরাধমূলক মামলা নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন কি পারবে অপহৃত বা নিখোঁজ মেয়েটিকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা শিব বিধানসভা কেন্দ্র।





