“পাপীদের অফিসে হাত দেবেন না!” জয় পেতেই কি বদলে গেল শুভেন্দুর মেজাজ? হঠাৎ কেন এই হুঁশিয়ারি?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই যখন রাজ্যজুড়ে সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এক অভাবনীয় ও কড়া বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। জয়ের উন্মাদনায় ভেসে গিয়ে যাতে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া না হয়, তার জন্য এবার নিজের মেজাজেই সাবধানবাণী শোনালেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “পাপীদের অফিসে হাত দেওয়ার কোনও দরকার নেই।”

ভোট পরবর্তী হিংসার ছায়া যাতে এবারের জয়ের ওপর না পড়ে, তার জন্য শুরু থেকেই সতর্ক রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সেই সুরেই সুর মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গেল এক অত্যন্ত সংযত কিন্তু আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে। তাঁর এই মন্তব্যের নেপথ্যে মূলত বিরোধী শিবিরের কার্যালয় এবং সম্পত্তিতে হামলা রুখতেই এই নির্দেশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ঠিক কী বলেছেন শুভেন্দু? বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, আইনি পথেই সব অপরাধের বিচার হবে। বিরোধী নেতাদের ‘পাপী’ বলে সম্বোধন করে তিনি কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন, যাতে তাঁদের পার্টি অফিস বা ব্যক্তিগত কার্যালয়ে কোনও ভাঙচুর না করা হয়। তাঁর মতে, ইটের বদলে পাটকেল মেরে অশান্তি বাড়ানো বিজেপির লক্ষ্য নয়, বরং শান্তির বাতাবরণ বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।

অ্যাকশন মুডে বিজেপি নেতৃত্ব: শুভেন্দুর এই বার্তার সমান্তরালে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বারবার একই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনওভাবেই বিজয় উৎসব যেন সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার আগেই নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলার মাটিতে যাতে হিংসার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য বিজেপি নেতাদের এই ধরনের কড়া ও সরাসরি নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, শীর্ষ নেতৃত্বের এই ‘পাপীদের স্পর্শ না করার’ নির্দেশ নিচুতলার কর্মীরা কতটা পালন করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy