নবান্নের অন্দরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে তোলপাড় চলছিলই। এবার সেই একই ছবি ধরা পড়ল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরেও। সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে। বুধবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে দেখা গেল কড়া নিরাপত্তা ও নজিরবিহীন তল্লাশি অভিযান।
আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক একাধিক ইস্যুতে স্বাস্থ্য ভবন বারংবার শিরোনামে এসেছে। এবার প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য ভবনে কর্মরত অফিসার থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী— কাউকেই রেয়াত করছে না জওয়ানরা।
তল্লাশিতে কী কী দেখা হচ্ছে? সূত্রের খবর, নিরাপত্তাকর্মীরা এখন প্রতিটি ব্যাগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালাচ্ছেন। কার কাছে কী ধরনের ফাইল রয়েছে, কোনও গোপন নথি বা হার্ড ড্রাইভ বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি আধিকারিকদের পরিচয়পত্র যাচাই করার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ব্যাগও স্ক্যান করা হচ্ছে। কোন ফাইলে কী সই হচ্ছে বা কোন শাখা থেকে কোন ফাইল বেরোচ্ছে, তার প্রতিটি তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে গেটেই।
কেন এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি? রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের ফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকারি নথি যাতে কোনওভাবে নষ্ট না হয় বা সরানো না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এর আগে নবান্নেও একইভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে নজরদারি চালানো হয়েছিল। এবার স্বাস্থ্য ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এই ‘টাইট নজরদারি’ ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য মহলে।
নিরাপত্তার এই পাহাড়প্রমাণ ঘেরাটোপ দেখে অনেক কর্মীই অস্বস্তিতে পড়েছেন। তবে শীর্ষ মহলের দাবি, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং দপ্তরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই কড়া ব্যবস্থা। এখন প্রশ্ন উঠছে, নবান্ন ও স্বাস্থ্য ভবনের পর আর কোন কোন সরকারি দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ‘সারপ্রাইজ চেক’ শুরু হয়, সেটাই দেখার।





