বিধানসভা নির্বাচনের আবহে উত্তর ২৪ পরগনার অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র পানিহাটিতে জনসভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিনের সভায় তাঁর রাজনৈতিক কৌশল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তোলা আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে যখন বিরোধীরা সরব, তখন পানিহাটির মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ‘নীরব’ রইলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিতর্কিত ইস্যুতে বিরোধীদের বাড়তি অক্সিজেন না দিতেই এই কৌশলী নীরবতা।
আক্রমণের কেন্দ্রে বিজেপি ও বিএসএফ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সংস্থা। তিনি বলেন:
অনুপ্রবেশ ইস্যু: “বর্ডারে অনুপ্রবেশ আটকানোর দায়িত্ব বিএসএফের। অথচ দোষ দেওয়া হচ্ছে বাংলাকে। বিজেপি শাসিত কেন্দ্র নিজের ব্যর্থতা লুকোতে বাংলাকে অনুপ্রবেশের কারখানা বলছে।”
এজেন্সি নিয়ে হুঁশিয়ারি: ইডি-সিবিআইয়ের তৎপরতা নিয়ে তাঁর সাফ কথা, “আমাকে ধমকালে আমি চমকাই না, গর্জাই। এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে থামানো যাবে না।”
টাকা দিয়ে ভিড়: বিজেপির মিছিলে ৫০০ টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে আনা হচ্ছে বলে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।
পানিহাটির প্রার্থী বদল ও স্থানীয় নেতৃত্বকে বার্তা: পানিহাটির পাঁচ বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষের প্রার্থী না হওয়া নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটান মমতা। তিনি জানান, নির্মল বাবু নিজেই এবার বিশ্রাম চেয়েছিলেন এবং তাঁর ইচ্ছেতেই ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে জমি দখল বা প্রোমোটিং রাজ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে নেত্রী বলেন, “যারা লোভ বা জবরদস্তি করবে, তাদের জন্য তৃণমূল নয়।”
নির্বাচন কমিশন ও এনআরসি প্রসঙ্গ: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তৃণমূলকে আল্টিমেটাম দেওয়া হচ্ছে, যা প্রমাণ করে বিজেপি কেবল তৃণমূলকেই ভয় পায়। পাশাপাশি এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি মনে করিয়ে দেন, অসমে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল, যার মধ্যে ১৩ লক্ষই হিন্দু।
বিটি রোডে মেগা রোড-শো: বিকেলে বরানগর থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিমি দীর্ঘ পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশে ছিলেন প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিটি রোড জুড়ে এদিন কার্যত জনজোয়ার নামে। বিশেষত মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিল চলাকালীন একদল স্কুল পড়ুয়ার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলা ও উপহার গ্রহণ করার দৃশ্যটি এদিন মানুষের নজর কেড়েছে।





