আইটি অফিসের আড়ালে ধর্মান্তকরণ র্যাকেট! আসিফ ও শাহরুখের কীর্তি ফাঁস, সতর্কবার্তা লালবাজারের

গ্ল্যামারাস আইটি সেক্টর বা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের আড়ালে চলছিল এক ভয়াবহ ধর্মান্তকরণ চক্র। দীর্ঘদিনের নজরদারির পর পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই চক্রের দুই প্রধান পাণ্ডা আসিফ এবং শাহরুখ-কে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উচ্চবেতনের চাকরির টোপ দিয়ে বা সহকর্মীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে এই মগজধোলাইয়ের কাজ চালাচ্ছিল তারা।
কীভাবে ফাঁস হলো এই চক্র? সম্প্রতি একটি নামী আইটি সংস্থার এক তরুণ কর্মী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ওই কর্মীর সঙ্গে আসিফ ও শাহরুখের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট খতিয়ে দেখার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
কাজের ধরণ (Modus Operandi): পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য:
টার্গেট চয়ন: মূলত যারা মানসিক অবসাদে ভুগছেন বা পারিবারিক সমস্যায় জেরবার, এমন তরুণ কর্মীদেরই টার্গেট করত আসিফ ও শাহরুখ।
মগজধোলাই: অফিসের লাঞ্চ ব্রেক বা ছুটির পর আড্ডার ছলে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে মগজধোলাই বা ‘র্যাডিক্যালাইজেশন’ শুরু হতো।
বিদেশে চাকরির প্রলোভন: ধর্মান্তরিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আরও উচ্চপদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার লোভ দেখানো হতো।
গোপন গোষ্ঠী: ধৃতরা একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে গোপন গ্রুপ চালাত, যেখানে বিদ্বেষমূলক বিষয়বস্তু শেয়ার করা হতো।
পুলিশের পদক্ষেপ: ধৃতদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, একাধিক হার্ড ড্রাইভ এবং কিছু বিতর্কিত নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই চক্রের পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক যোগসূত্র বা বড় কোনো জঙ্গি সংগঠনের অর্থায়ন রয়েছে কি না। ধৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট এবং অবৈধভাবে ধর্মান্তকরণের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: সাইবার ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষিত সমাজেও যে এমন চক্র সক্রিয় হতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা বা কারোর দেওয়া সন্দেহজনক প্রলোভন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।