দীর্ঘ রাজনৈতিক খরার পর ফের ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সিপিএম। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে ফের প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করল বামেরা। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কণ্ঠে শোনা গেল সেই আত্মবিশ্বাসের সুর।
‘তৃণমূল বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাচ্ছে’ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে মহম্মদ সেলিম বলেন, “এই ভয়াবহ গরমে তৃণমূল কংগ্রেস বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাচ্ছে।” তাঁর দাবি, তৃণমূলের জনসমর্থন এখন তলানিতে। মানুষ বর্তমান পরিস্থিতির একটি বিকল্প খুঁজছে এবং সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য একমাত্র ভরসা বামফ্রন্টই।
রাজনৈতিক কৌশল ও সেলিমের দাবি: সেলিম মনে করেন, রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপি মিলে একটি কৃত্রিম ‘বাইনারি’ বা দ্বিমুখী রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করেছে, যাতে বামেদের কণ্ঠরোধ করা যায়। কিন্তু সেই জাল ছিঁড়ে বামপন্থীরা আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে বলে তাঁর দাবি। সেলিমের ভাষায়:
আদর্শগত লড়াই: আরএসএস ও বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে বামেরাই ছিল এবং থাকবে একমাত্র অকুতোভয় শক্তি।
গণতান্ত্রিক অধিকার: সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের রুজি-রোজগার বাঁচাতে হকার উচ্ছেদ থেকে শুরু করে শ্রমিক আন্দোলনের পথে নেমেছে সিপিএম।
ধর্মীয় মেরুকরণ: বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় দলই ধর্মের নামে রাজনীতি করে বাংলার সংস্কৃতিকে বিপন্ন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান কী বলছে? ২০১১ সালে বামফ্রন্টের বিদায়ের সময় সিপিএমের ভোটের হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ, যা ২০২১ সালে ৪.৭৩ শতাংশে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের উপনির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে বামেদের জয় রাজনৈতিক মহলে কিছুটা হলেও চর্চা তৈরি করেছে। যদিও ৪.৪৫ শতাংশ ভোটের হার থেকে দ্রুত মূলধারায় ফেরা বড় চ্যালেঞ্জ, তবুও কর্মীদের উজ্জীবিত করতে সেলিমের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বামেদের লক্ষ্য: শুধুমাত্র তাত্ত্বিক বিরোধিতা নয়, বরং বাস্তব রাজনীতির ময়দানে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেদের সক্রিয় ভূমিকাই এখন আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। সংখ্যালঘু সুরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং রাজ্যের কর্মসংস্থানের মতো ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই নতুন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।





