সুদূর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব এবার বাংলার স্বাস্থ্য পরিষেবায়। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় রাজ্যে স্যালাইনসহ একাধিক জীবনদায়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
সংকটের কেন্দ্রে কোন কোন সামগ্রী? সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যে সমস্ত ওষুধের ক্ষেত্রে ঘাটতির আশঙ্কা করা হয়েছে, তার তালিকা বেশ উদ্বেগজনক। এর মধ্যে রয়েছে:
১০০ মিলিলিটার স্যালাইন ও ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ।
প্যারাসিটামল ও প্যান্টোপ্রাজল ট্যাবলেট।
ওআরএস (ORS), মেটফর্মিন ও টেলমিসার্টান।
কী জানাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর? পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। মূলত ওই অঞ্চল থেকে ওষুধ তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করা হয়। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণের খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-তে পণ্য পরিবহণে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালগুলোকে বিশেষ নির্দেশ: এই সংকট মোকাবিলায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর তড়িঘড়ি সমস্ত হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থার (Catalog) অপেক্ষায় না থেকে, প্রয়োজনে ‘নন-ক্যাটালগ’ বা বিকল্প উৎস থেকে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, রোগীদের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রয়োজনে বাজার থেকে সরাসরি কেনাকাটার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পেট্রোরাসায়নিক সামগ্রী পরিবাহিত হয়। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি আঁচ এসে পড়েছে ওষুধের প্যাকেজিং ও তৈরির খরচের ওপর। স্বাস্থ্য মহলের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চিকিৎসা পরিষেবার স্বাভাবিক ছন্দ পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
বর্তমানে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যাতে হাসপাতালের স্টোরে ওষুধের ভাঁড়ারে টান না পড়ে। সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।





