ভোটের ময়দানে এবার আরও বড় বিতর্কে জড়ালেন উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অজয় পাল শর্মা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে মারধর, হুমকি এবং শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগে এবার এই পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন এক মহিলা। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগেই এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগের বয়ানে যা বলা হয়েছে:
অভিযোগকারী ওই মহিলার দাবি, মঙ্গলবার রাতে তাঁর বাড়িতে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে। তারা নিজেদের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) বলে পরিচয় দেয়। মহিলার অভিযোগ:
কোনো আদালতের নির্দেশ ছাড়াই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের শারীরিক হেনস্থা ও মারধর করা হয়।
এমনকি ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
‘বিজেপিকে ভোট দেওয়ার চাপ’
অভিযোগপত্রে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি হলো রাজনৈতিক চাপ। মহিলার দাবি, হামলাকারীরা সাফ জানিয়ে দেয় যে— বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। অন্য কোনো দলকে ভোট দিলে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
তদন্তের মুখে IPS অজয় পালের ভূমিকা?
অভিযোগকারী মহিলা সরাসরি দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনাটি যখন ঘটেছে তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি তদারকির দায়িত্বে ছিলেন অজয় পাল শর্মা। এর আগে তাঁর পক্ষ থেকেও পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এই হামলার নেপথ্যে ওই আইপিএস অফিসারের কোনো প্রচ্ছন্ন মদত বা নির্দেশনা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ভাইরাল ভিডিও
উল্লেখ্য, সোমবার থেকেই অজয় পাল শর্মার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)। সেখানে তাঁকে কড়া মেজাজে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছিল। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর বিরুদ্ধে অতি-সক্রিয়তার অভিযোগ তোলে। এবার সরাসরি থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় আইপিএস অজয় পালের ওপর চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





