বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া কি তবে আরও জোরালো হচ্ছে? নির্বাচনের মাঝপথেই রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এতকাল এই প্রশ্নে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থান নিলেও, শুক্রবারের মেগা সভা থেকে বড়সড় সংকেত দিয়ে দিলেন তিনি।
কী বললেন অমিত শাহ? এদিন কলকাতায় এক শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তী জনসভায় শাহ সাফ জানিয়ে দেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আপনাদের চিন্তার কিছু নেই। এই মাটির কোনো এক সুযোগ্য সন্তানই সোনার বাংলার নেতৃত্ব দেবেন।”
তবে তাঁর বক্তৃতায় বিশেষ কিছু ইঙ্গিত নজর কেড়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের:
ভূমিপুত্রের তত্ত্ব: শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো বহিরাগত বা ভিন রাজ্যের নেতাকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হবে না।
শুভেন্দু না দিলীপ? যদিও কোনো নির্দিষ্ট নাম তিনি সরাসরি ঘোষণা করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যে বারবার যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর ‘লড়াকু ইমেজ’ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে তাঁর সমন্বয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি।
সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত: শাহ জানিয়েছেন, ভোটের ফল বেরোনোর পরই সংসদীয় কমিটি বিধায়কদের সাথে আলোচনা করে যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
বিজেপির রণকৌশল: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট করে কোনো নাম ঘোষণা না করা আসলে বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এর ফলে দলের বিভিন্ন শিবিরের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এড়ানো সম্ভব হবে এবং ‘বড় নেতার’ ছাতার নিচে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বে। তবে শাহের এদিনের বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে, বিজেপি ইতিমধ্যেই এক বা একাধিক বিকল্প মুখ ভেবে রেখেছে।
তৃণমূল অবশ্য শাহের এই ইঙ্গিতকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। শাসক শিবিরের দাবি, বিজেপির কাছে বাংলার কোনো যোগ্য মুখ নেই বলেই তারা নাম ঘোষণা করতে ভয় পাচ্ছে। এখন দেখার, শাহের এই ‘ইঙ্গিত’ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।





