প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সওকত মোল্লার গ্রেফতারির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এরই মধ্যে এবার নতুন বিপদের সম্মুখীন হলেন তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লা। সরকারি জমি জবরদখল এবং বেআইনিভাবে মাতলা নদীর চর ভরাট করে ক্যাফে তৈরির অভিযোগে তাঁকে তলব করল প্রশাসন। আগামী ১৮ জুনের মধ্যে তাঁকে এসডিও (SDO) অফিসে সশরীরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ক্যানিংয়ের জীবনতলার মৌখালি এলাকায় ইমরান মোল্লার নিজস্ব ক্যাফে বা রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী পরিবারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাতলা নদীর চরের একটি বড় অংশ ভরাট করে এই বিশাল নির্মাণ গড়ে তোলা হয়েছে। নদীগর্ভ ভরাট করার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, তৃণমূল শাসনামলে একাধিকবার প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ জানানো হলেও, সওকত মোল্লার প্রভাবে তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-এর আধিকারিকরা সওকত মোল্লার খোঁজে ক্যানিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই তদন্তকারী দল ইমরান মোল্লার ওই বিতর্কিত ক্যাফেতেও হানা দেয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। স্থানীয় দোকানদারদের দাবি, প্রাক্তন এই বিধায়কের ছত্রছায়ায় এলাকায় জবরদখলের সংস্কৃতি একপ্রকার স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরকারি নোটিস পৌঁছল তাঁর ছেলের কাছে।
প্রশাসনের তরফে জারি করা এই নোটিসকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ জুনের মধ্যে এসডিও অফিসে হাজির হয়ে ইমরান মোল্লাকে তাঁর এই ক্যাফে নির্মাণের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং বয়ান পেশ করতে হবে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, আইন তার নিজস্ব পথে চলতে শুরু করেছে। একদিকে বাবা যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে, তখন ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা এই ‘নদী চুরি’র অভিযোগ প্রশাসনিক চাপকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত ইমরান মোল্লা বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





