পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল রাজনৈতিক মহল। মধ্যরাতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের বাড়িতে পুলিশি হানার পর সামনে এল ত্রাণের নামে লুঠপাটের ভয়ংকর অভিযোগ। সূত্রের খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়েই মাঝরাতে দেবপ্রসাদ বাগের বাসভবন ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় জওয়ানরা। দীর্ঘ অভিযানের পর বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন এই প্রাক্তন বিধায়ক।
অভিযোগ রয়েছে যে, বিধায়কের বিলাসবহুল বাড়ির অভ্যন্তরে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ বা গোপন গুদাম। সেখানে ত্রিপল, খাদ্যসামগ্রী এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত ছিল বলে দাবি পুলিশের। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কালনা ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রণব রায় সহ স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান বিধায়কের বাড়ির সামনে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, বিধায়ককে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কালনা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনীকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের রাজনৈতিক উত্থান ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌতূহল ছিল। তাঁর বোন জানিয়েছেন যে, প্রথম জীবনে ইলেকট্রিক মেকানিক হিসেবে কাজ করা দেবপ্রসাদ কংগ্রেস হয়ে ২০১৫ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “আমাদের সঙ্গে ওঁর কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরে শুনছি ওঁর বাড়ির নিচে গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড তৈরি করা হয়েছে। একজন মেকানিকের এত সম্পত্তি বা ত্রাণের গোডাউন কোনোভাবেই সৎ উপায়ে আসা সম্ভব নয়।” বোন এই মন্তব্য করার পরই বিধায়কের সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও বিধায়কের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং বাজেয়াপ্ত ত্রাণসামগ্রীর হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। সরকারি ত্রাণ যে সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ির গুদামে মজুত ছিল, তা এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তৃণমূল বিধায়কের এই ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ সাম্রাজ্য ও ত্রাণ লুঠের অভিযোগের পর স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। আপাতত দেবপ্রসাদ বাগকে পুলিশি হেফাজতে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত বা এই ত্রাণের জোগান কোথা থেকে আসত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাটি ডেইলিয়ান্টসহ রাজ্যের সংবাদমাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





