রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী অধ্যায়ে শিল্প ও কর্মসংস্থানকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি সরকার। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প মানচিত্রে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাপ্রদ খবর সামনে এল। দেশের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদক সংস্থা ‘আমুল’ (Amul) এবার রাজ্যে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের অর্থনৈতিক মহলে উৎসাহের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, এই বিনিয়োগের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং প্রকল্পটিকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি নবান্নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এই বৈঠকে আমুল গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন (GCMMF)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়েন মেহতা এবং আমুল ডেইরির কর্ণধার অমিত ব্যাসের সঙ্গে এই বৈঠকে শিল্পায়নের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আলোচনাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
শিল্পপ্রসারে রাজ্য বিজেপির এই তৎপরতা গত কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সম্প্রতি রাজ্যের শিল্প পরিবেশ নিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ঠিক তার পরেই মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এক্স হ্যান্ডেলে এই ৬৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছিলেন। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমুল প্রতিনিধিদের সরাসরি বৈঠকের পর এখন তা নিশ্চিত রূপ নিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈঠকের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “নবান্নে আমুলের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করলাম। আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গে আমুলের মতো বৃহৎ ও স্বনামধন্য সংস্থার ব্যবসা সম্প্রসারণ রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে। এটি কেবল বিনিয়োগ নয়, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রাজ্যের দুগ্ধশিল্পের বিকাশে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমুলের এই বিনিয়োগ কেবল একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। রাজ্যের দুগ্ধশিল্পের মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরির ক্ষেত্রে আমুলের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বড় ভূমিকা নেবে। একদিকে শিল্পের প্রসার এবং অন্যদিকে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে আমুলের এই প্রকল্পটিকে ঘিরে বাংলা এখন নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে। আগামীদিনে এই প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত শুরু হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ।





