ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রতিটি বাড়িতে তুলসি গাছের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। শুধু ধর্মীয় মাহাত্ম্যই নয়, এর ঔষধি গুণাবলীর কারণেও প্রতিটি পরিবারে এই গাছ যত্ন সহকারে রাখা হয়। তবে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বর্ষাকালে এই গাছের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। অঝোর ধারায় বৃষ্টি, বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতা এবং সূর্যের আলোর অভাবের কারণে এই সময়ে তুলসি গাছের শিকড় পচা, পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণের মতো সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয়। আপনার প্রিয় গাছটিকে বর্ষার মরসুমে সুস্থ ও সতেজ রাখতে নিচে উল্লিখিত নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি।
প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে জলের পরিমাণ। বর্ষাকালে অনেকেই নিয়মিত গাছে জল দিয়ে থাকেন, যা গাছের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বৃষ্টির দিনে মাটিতে এমনিতেই পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকে, তাই প্রতিদিন জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গাছে জল দেওয়ার আগে আঙুল দিয়ে মাটি পরীক্ষা করে দেখুন, যদি মাটি ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে মনে হয়, তবে সেদিন জল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এছাড়া টবের নিষ্কাশন ব্যবস্থা বা ড্রেনেজ সিস্টেমের দিকে নজর দিন। টবের নিচে অবশ্যই পর্যাপ্ত ছিদ্র থাকা প্রয়োজন যাতে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যেতে পারে। জল জমে থাকলে শিকড় পচন বা রুট রট অনিবার্য।
গাছের সুস্বাস্থ্যের জন্য সূর্যালোক অপরিহার্য। বর্ষাকালে অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা মৃদু রোদ গাছটিকে সুস্থ রাখে। একটানা বৃষ্টির সময় টবটিকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে রোদ পৌঁছায়, কিন্তু সরাসরি ভারী বৃষ্টি থেকে গাছটি সুরক্ষিত থাকে। এছাড়া ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত গাছ পর্যবেক্ষণ করুন। গাছের কোনো পাতা হলুদ বা কালো হয়ে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ছেঁটে ফেলুন, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। মাঝে মাঝে শুকনো ডালপালা ছেঁটে দিলে নতুন ডাল দ্রুত গজাতে সাহায্য করে।
পুষ্টির জন্য প্রতি ২০ থেকে ২৫ দিন অন্তর ভার্মিকম্পোস্ট বা পচা গোবর সার ব্যবহার করুন। তবে বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত সার দেবেন না, কারণ এটি শিকড়ের ক্ষতি করতে পারে। ছত্রাকের সংক্রমণ বা পোকামাকড় থেকে দূরে রাখতে নিম তেলের হালকা মিশ্রণ স্প্রে করা অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি খেয়াল রাখুন গাছটি যেন পর্যাপ্ত বাতাস পায়। বদ্ধ জায়গায় ছত্রাক দ্রুত ছড়ায়, তাই খোলা বারান্দা বা ব্যালকনি তুলসি গাছের জন্য সবচেয়ে আদর্শ স্থান। এই সামান্য সতর্কতাগুলো অবলম্বন করলে বর্ষার পরেও আপনার তুলসি গাছ সতেজ, সবুজ এবং প্রাণবন্ত থাকবে।





