প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্ক ভর করে আরামবাগ মহকুমার গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া এলাকায়। নদীর জল উপচে প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম, তলিয়ে যায় কৃষকদের কষ্টের ফসল। যুগের পর যুগ ধরে এই অঞ্চলের মানুষ স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সরব হলেও, মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। তবে ভোটের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোয় এবার এলাকাবাসীর সেই বহু প্রতীক্ষিত ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর আশা জেগেছে।
সম্প্রতি কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে এই বন্যা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, এই অঞ্চলের মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প তৈরির রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে। সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মাস্টার প্ল্যানের মূল লক্ষ্য হবে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।
আরামবাগ মহকুমার পাশ দিয়ে প্রবাহিত মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ এবং দ্বারকেশ্বর নদীর জলধারণ ক্ষমতা বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। দীর্ঘদিন নদী খনন না হওয়ায় তলদেশে পলি জমে নদীপথ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর জল কুল ছাপিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এই সমস্যা সমাধানে নদীগুলোতে বড় আকারের ড্রেজিং এবং পলি অপসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, নদীবাঁধগুলিকে আরও মজবুত ও উচ্চতা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভরা বর্ষাতেও বাঁধ ভেঙে প্লাবনের ঝুঁকি না থাকে।
শুধু নদী নয়, আরামবাগ ও খানাকুলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অরোরা খালের সংস্কারও এই প্রকল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পলি জমে এই খালের প্রবাহ পথ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এই খালের সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনে নতুন খাল খননের কথাও ভাবছে প্রশাসন, যাতে অতিরিক্ত জল দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়।
রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় বিধায়কদের মতে, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান রেখেই এই প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক তৎপরতায় স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি এই মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে, বহু বছরের বন্যা-বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়াবাসী। কৃষিনির্ভর এই জনপদকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।





