বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ তিলোত্তমার রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। তবে এই মহালগ্নে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য। শপথের মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, “ভারত যেদিন স্বাধীন হয়েছিল এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই স্বাধীনতা বাংলা সত্যিকার অর্থে ফিরে পেল।”
কলকাতার ব্রিগেড গ্রাউন্ড আজ যেন এক উৎসবের প্রাঙ্গণ। নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকরা—সবার হাতেই ছিল গেরুয়া এবং লাল-হলুদ পতাকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলায় এই রাজনৈতিক ‘পরিবর্তন’ দেখে অনেক কর্মীর চোখেই দেখা যায় আনন্দের অশ্রু। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের লড়াই এবং কষ্টের পর আজ তারা কাঙ্ক্ষিত জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।
দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর বক্তব্যে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলার জন্য যে স্বাধীন চেতনা ও অখণ্ডতার লড়াই করেছিলেন, আজ সেই আদর্শেরই জয় হয়েছে। এটা শুধু একটা সরকারের শপথ গ্রহণ নয়, বরং এটি বাংলার নতুন জাগরণের সূচনা। যে বাংলা একসময় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিত, সেই হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার সময় এসেছে।”
এই সাফল্যের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন ত্রিবেদী। তিনি স্পষ্ট জানান, অমিত শাহের নিরলস পরিশ্রম এবং কৌশলী নেতৃত্ব ছাড়া এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হত না। গ্রামে-গঞ্জে সংগঠন মজবুত করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে বিজেপি কর্মীদের এই জায়গায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব তিনি অমিত শাহকেই দিয়েছেন। ব্রিগেডের রেকর্ড ভিড় আজ যেন সেই পরিশ্রমেরই প্রমাণ দিচ্ছে। শপথে আসা সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস এবং ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাংলার রাজনীতিতে আজ সত্যিই এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের শুরু হলো।





