প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করল কেন্দ্রীয় সরকার। কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ (DoPT) দ্বারা জারি করা সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং-কে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ (DDR&D)-এর সচিব এবং ডিআরডিও (DRDO)-র চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ডঃ সমীর ভি. কামাতের কার্যকাল শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, আগামী ৩১ মে, ২০২৬ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। যতক্ষণ না এই পদে স্থায়ীভাবে কাউকে নিযুক্ত করা হচ্ছে, ততক্ষণ রাজেশ কুমার সিং এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।
কেরালা ক্যাডারের ১৯৮৯ ব্যাচের আইএএস অফিসার রাজেশ কুমার সিং বর্তমানে দেশের প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ওপর ডিআরডিও-র মতো সংবেদনশীল বিভাগের বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করাকে সামরিক আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, রাডার সিস্টেম এবং যুদ্ধকালীন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে ডিআরডিও-র ভূমিকা অপরিসীম। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিজ্ঞ আইএএস অফিসারের কাঁধে এই দায়িত্ব দিয়ে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় আরও গতি আনতে চায়।
অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রশাসনিক ও অপারেশনাল ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আজ নৌবাহিনীর ৪৮তম ভাইস চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল অজয় কোচার। দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি দিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেশের শহীদ বীর সৈন্যদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভাইস অ্যাডমিরাল অজয় কোচারের কর্মজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। পুনের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (NDA)-এর প্রাক্তনী কোচার ১৯৮৮ সালের ১ জুলাই নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। গত ৩৭ বছরের সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি গানারি ও মিসাইল ওয়ারফেয়ারে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, অপারেশনাল এবং স্টাফ পদে সফলতার স্বাক্ষর রাখা এই ফ্ল্যাগ অফিসার আইএনএস নাশক, বিভূতি এবং কৃপান-এর মতো যুদ্ধজাহাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হলো বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ড। তাঁর নেতৃত্বেই রণতরীটি এয়ার উইংয়ের একীকরণ ও পরিচালনার জটিল প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল। এছাড়াও তিনি ত্রিখণ্ড ফ্রিগেটের কমিশনিং কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রতিরক্ষা ও নৌবাহিনীতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একদিকে ডিআরডিও-র প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অন্যদিকে নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি—এই জোড়া লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে কেন্দ্র। মন্ত্রিসভার সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতি সচিবালয়কে এই নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষা সুরক্ষায় এই নতুন নেতৃত্ব আগামী দিনে কী ধরনের কৌশলগত ভূমিকা পালন করে, সেদিকেই এখন নজর প্রতিরক্ষা মহলের।





