পুলিশ মহলে হুলস্থুল! শান্তনু সিনহার গোপন আস্তানার খোঁজে তদন্তকারীরা, ফাঁস হবে কি বড় কোনো মাথা?

কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহার বিপদ যেন কাটতেই চাইছে না। দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে লুকআউট নোটিস দেওয়ার পর এবার তাঁর ও তাঁর পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পাহাড়ে হানা দিতে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতায় এখন রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে লালবাজারের অন্দরে।

ইডি সূত্রে খবর, শান্তনু সিনহা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা শান্তনু সিনহার স্ত্রী এবং দুই ছেলের নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য জোগাড় করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। শুধুমাত্র কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিনরাজ্যেও এই পরিবারের কোনো গোপন সম্পত্তি বা বিনিয়োগ রয়েছে কি না, তা জানতে বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন অফিসের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি।

ইতিমধ্যেই আয়কর দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই আধিকারিকের পরিবারের বার্ষিক আয় এবং বর্তমান জীবনযাত্রার মধ্যে সামঞ্জস্য খোঁজার চেষ্টা চলছে। ইডি-র একটি সূত্র দাবি করছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট এবং বিমার মাধ্যমে বড়সড় আর্থিক লেনদেনের হদিস মিলেছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বেনামে সম্পত্তি হস্তান্তর হয়েছে কি না, তাও এখন স্ক্যানারের নিচে।

প্রশাসনিক মহলের দাবি, লুকআউট নোটিস জারির মূল উদ্দেশ্যই ছিল যাতে তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনোভাবেই সীমানা পার হতে না পারেন। এখন তদন্তের মোড় ঘোরানো হচ্ছে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্যের দিকে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণের কথা তদন্তকারীরা প্রকাশ্যে আনেননি, তবে নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে খুব শীঘ্রই শান্তনু সিনহা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই তদন্তকে স্বাগত জানিয়ে দুর্নীতির শিকড় খোঁজার দাবি তুললেও, শাসক শিবিরের একাংশের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা অনুচিত। সব মিলিয়ে, এক দুঁদে পুলিশ আধিকারিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ঘিরে তৈরি হওয়া এই আইনি টানাপোড়েন এখন বাংলার সবথেকে চর্চিত বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy