ইউরোপের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে এক বড় রদবদল ঘটতে চলেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ গ্রিসকে সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে এক যুগান্তকারী প্রস্তাব দিতে চলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, গ্রিস সফরে গিয়ে ম্যাক্রোঁ প্রস্তাব দেবেন যে— গ্রিসের কাছে থাকা পুরনো মিরাজ ২০০০ (Mirage 2000) যুদ্ধবিমানগুলো ফেরত নেবে ফ্রান্স, আর তার বদলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে আকাশযুদ্ধের শ্রেষ্ঠতম অস্ত্র রাফাল (Rafale)।
কেন এই অদলবদল? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিমুখী কৌশল:
গ্রিসের আধুনিকীকরণ: ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের (Turkey) সঙ্গে গ্রিসের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে রাফাল হাতে পাওয়া গ্রিক বিমানবাহিনীর জন্য হবে গেম-চেঞ্জার। রাফালের বহর বাড়লে আকাশে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত হবে।
মিরাজ ২০০০-এর ভবিষ্যৎ: ফ্রান্স এই পুরনো মিরাজগুলো ফেরত নিয়ে সম্ভবত ইউক্রেন বা তৃতীয় কোনো বন্ধু দেশকে সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, যাদের অবিলম্বে যুদ্ধের জন্য বিমান প্রয়োজন।
ম্যাক্রোঁ-র সফরের গুরুত্ব: ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র অ্যাথেন্স সফরে এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, গ্রিস তাদের ব্যবহৃত ‘মিরাজ ২০০০-৫’ সিরিজের বিমানগুলো ফ্রান্সের হাতে তুলে দেবে। বিনিময়ে ফ্রান্স বিশেষ ছাড়ে বা লিজের ভিত্তিতে নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক রাফাল জেট সরবরাহ করবে।
ভারতের ওপর প্রভাব: ভারতও মিরাজ ২০০০ এবং রাফাল— দুই ধরনের ফরাসি যুদ্ধবিমানই ব্যবহার করে। ফলে ফ্রান্সের এই ‘বিনিময় নীতি’ আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধবিমানের পুনর্ব্যবহার এবং নতুন ক্রয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন মডেল তৈরি করতে পারে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন ইউরোপের প্রতিটি দেশ নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে মরিয়া, তখন ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ অ্যাথেন্স এবং প্যারিসের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





