পুতিনের হাতে এবার ‘অজেয়’ অস্ত্র! সেকেন্ডে তছনছ হবে আমেরিকা-ইউরোপ? কী এই সারমাত?

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা আর পশ্চিমী দেশগুলোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই নিজের সামরিক শক্তির ভয়ংকর প্রদর্শন করল রাশিয়া। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ পরীক্ষা চালিয়েছে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং আধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘সারমাত’-এর। এই মিসাইলটি ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম, যা কার্যত গোটা বিশ্বকে রাশিয়ার নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে। অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম, যা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে যেকোনো বড় শহরকে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র: পুতিনের হুঙ্কার
ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দম্ভের সঙ্গেই ঘোষণা করেছেন যে, এটি বিশ্বের বর্তমান সময়ের সবথেকে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। তাঁর দাবি, পশ্চিমী দেশগুলোর সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা যেকোনো মারণাস্ত্রের তুলনায় ‘সারমাত’ অন্তত চার গুণ বেশি শক্তিশালী এবং ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বহনে সক্ষম। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘যুদ্ধকালীন দায়িত্বে’ মোতায়েন করা হবে। পুতিনের এই বার্তাকে আমেরিকা ও ন্যাটো দেশগুলোর প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পরমাণু চুক্তির অবসান ও নতুন ঝুঁকি
এমন এক সন্ধিক্ষণে রাশিয়া এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল, যখন ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে বাধ্য ছিল। কিন্তু এখন সেই চুক্তির বাধ্যবাধকতা না থাকায় রাশিয়া ও আমেরিকা—উভয় দেশই পুনরায় পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকেও এই ধরনের চুক্তির আওতায় আনতে চাইছেন, কিন্তু বেজিং সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

আশঙ্কার মেঘ বিশ্বরাজনীতিতে
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল। বিশেষ করে যখন জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত তুঙ্গে, তখন এই ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল রাশিয়ার সীমান্ত রক্ষা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তারের এক অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, রাশিয়ার এই শক্তির আস্ফালনের পাল্টা হিসেবে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy