জিনপিংয়ের পাশে ট্রাম্প, বেজিংয়ের ৬০০ বছরের পুরোনো মন্দিরে লুকানো কোন রহস্য?

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন পৌঁছেই বিশ্ববাসীকে চমকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের প্রথম দিনেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ বা স্বর্গের মন্দির পরিদর্শন করেন তিনি। মিং ও চিং রাজবংশের আমলের এই ৬০০ বছরের পুরোনো ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে দুই রাষ্ট্রপ্রধানকে বেশ কিছুক্ষণ পাশাপাশি হাঁটতে দেখা যায়। শি জিনপিং স্বয়ং ট্রাম্পকে এই মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী ব্যাখ্যা করছিলেন।

সাধারণত চীন বিদেশি নেতাদের স্বাগত জানাতে এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থান বেছে নেয় বিশেষ প্রতীকী বার্তা দিতে। মন্দিরের নীল গম্বুজ আর প্রাচীন চত্বরে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প চীনের মহত্ত্ব ও সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “অসাধারণ, চমৎকার একটি জায়গা। চীন সত্যিই সুন্দর।” তবে এই বন্ধুত্বপূর্ণ মেজাজের মাঝেও ছায়া ফেলেছে কূটনৈতিক জটিলতা। সাংবাদিকরা যখন বহুল আলোচিত ‘তাইওয়ান ইস্যু’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন দুই নেতাই অস্বাভাবিকভাবে নীরব থাকেন। ট্রাম্পের এই সংযত আচরণ এবং তাইওয়ান প্রশ্নে মুখ না খোলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

১৪২০ সালে নির্মিত এই মন্দিরটি চীনা সংস্কৃতির অন্যতম স্তম্ভ। প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, সম্রাটরা ছিলেন স্বর্গের পুত্র। তাঁরা এই মন্দিরে গিয়ে ভালো ফসল ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করতেন। ট্রাম্পের এই সফর এবং ‘স্বর্গের মন্দিরে’ জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎ কি কেবলই সৌজন্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক সমঝোতা? সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy