কুয়াশাভেজা পাহাড়ি পথে এখন আর শুধু মাইকের কর্কশ ভাষণ শোনা যাচ্ছে না, বরং কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ড্রাম আর বিটের ধুপধাপ শব্দ। দার্জিলিং, কালিম্পং বা কার্শিয়াং—এবার পাহাড়ের ভোট প্রচারে সব রং কেড়ে নিয়েছে ‘র্যাপ মিউজিক’। রাজনীতির ময়দানে জেন-জেড (Gen Z) বা তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে প্রথাগত মিছিল-মিটিং ছেড়ে এখন গানের লড়াইয়ে নেমেছে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলো।
অনিত বনাম অজয়: কে বেশি ‘হিপ-হপ’?
পাহাড়ের রাজনীতির দুই প্রধান মুখ—অনিত থাপার বিজিপিএম এবং অজয় এডওয়ার্ডের আইজেজেএফ-এর মধ্যে এখন চলছে মিউজিক ভিডিওর টক্কর।
আইজেজেএফ-এর চাল: অজয় এডওয়ার্ডের দল ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়ে প্রথম র্যাপ গান নামিয়ে বাজিমাত করে।
অনিত থাপার পালটা: পিছিয়ে নেই অনিত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চাও। একের পর এক ডিশ-ট্র্যাক এবং পলিটিক্যাল র্যাপে তারা জবাব দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে।
প্রচারে এআই (AI) ও পার্সোনালাইজড টাচ
এবারের লড়াই শুধু দলের নয়, প্রার্থীরও। কালিম্পংয়ের বিধায়ক রুদেন সাডা লেপচা কিংবা কার্শিয়াংয়ের বন্দনা রাই—সবার জন্যই তৈরি হয়েছে আলাদা আলাদা মিউজিক ভিডিও। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সাহায্যে চটজলদি তৈরি হচ্ছে ক্যাচি টিউন, যা নিমেষেই ভাইরাল হচ্ছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে।
নেপালের ‘বালেন শাহ’ প্রভাব?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের এই নতুন ট্রেন্ডের নেপথ্যে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপালের প্রভাব। নেপালের র্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বালেন শাহের উত্থান দার্জিলিংয়ের তরুণদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই এখন বড় স্পিকার লাগানো গাড়িতে র্যাপ বাজিয়ে পাহাড়ি পথে ঘুরছে রাজনৈতিক দলগুলো।
সব মিলিয়ে, পাহাড়ের এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সাক্ষী থাকছে। প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে র্যাপ সঙ্গীতের এই ‘বিট’ শেষ পর্যন্ত কার বাক্সে ভোট টানতে পারে, সেটাই এখন দেখার।





