পরিচারিকা থেকে মন্ত্রী! আউশগ্রামের কলিতা মাঝির রূপকথার জয় ও নতুন দায়িত্বের অঙ্গীকার

সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই, বরং কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠাই যে সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি—তার জ্বলন্ত উদাহরণ আউশগ্রামের বিজেপি বিধায়ক কলিতা মাঝি। আজ ১ জুন, সোমবার লোকভবনে রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। গুসকরা শহরের বাসিন্দা কলিতা মাঝির এই যাত্রা সাধারণ এক পরিচারিকা থেকে রাজ্যের মন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানো, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অনুপ্রেরণার আখ্যান হয়ে রইল।

শপথ গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রী কলিতা মাঝি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার বিধানসভা এলাকার জন্য আমার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল হাসপাতাল নির্মাণ, দমকল কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা এবং পানীয় জলের সমস্যার সমাধান করা। বিধায়ক থাকাকালীন মানুষের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। তবে এখন দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে। এখন আমি শুধু আউশগ্রামের প্রতিনিধি নই, গোটা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব আমার কাঁধে। স্বাভাবিকভাবেই, এখন আমার চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনার ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত।”

কলিতা মাঝির এই রাজনৈতিক উত্থান একদিনে হয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু সেই নির্বাচনে জয় অধরা ছিল। তবুও হার মানেননি তিনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে নিজের জমি শক্ত করেছেন। লোকসভা নির্বাচনের ফলের পর যখন অনেকেই হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন কলিতা মাঝি লড়াই চালিয়ে গেছেন। দলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন নেতৃত্ব, আর আউশগ্রামের মানুষও তাঁকে নিরাশ করেননি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সাড়ে বারো হাজারেরও বেশি ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন, তৃণমূল স্তরের মানুষের লড়াইয়ের ক্ষমতা কতটা প্রবল।

এদিন কলিতা মাঝির পাশাপাশি আরও একঝাঁক নেতা মন্ত্রিত্বের শপথ নিয়েছেন। বিজেপি পরিচালিত এই মন্ত্রিসভায় দীপক বর্মন, শঙ্কর ঘোষ, মনোজ ওঁরাও, তাপস রায়, অর্জুন সিং, ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ, মালতী রাভা রায়, গৌরীশঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল, অজয় পোদ্দার, কল্যাণ চক্রবর্তী এবং অশোক দিন্দার মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখেরা রয়েছেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বিশাল লামা, রাজেশ মাহাতো, উমেশ রাই, আনন্দময় বর্মন, অমিয় কিস্কু, সুমনা সরকার, দিবাকর ঘরামি, ভাস্কর ভট্টাচার্য, গার্গী দাস ঘোষ, দীপঙ্কর জানা, কৌশিক চৌধুরী, অরূপ কুমার দাস, হরেকৃষ্ণ বেরা, শান্তনু প্রামাণিক, মৌমিতা বিশ্বাস, চাঁদ বাউড়ি, জুয়েল মুর্মু এবং বিরাজ বিশ্বাস শপথ গ্রহণ করেছেন।

বিশেষত ডা. ইন্দ্রনীল খাঁ, মালতী রাভা রায় এবং রাজেশ মাহাতোকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভার এই ভারসাম্য উত্তর থেকে দক্ষিণ—বাংলার প্রতিটি প্রান্তের মানুষের দাবি পূরণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। এক সাধারণ নারীর এই মন্ত্রী হওয়ার ঘটনা আউশগ্রামবাসীর জন্য যেমন গর্বের, তেমনই সাধারণ মানুষের প্রতি রাজ্যের নতুন সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy