১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের ইস্তফা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে। দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে হঠাৎ কেন বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি? এই প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে। তবে সুশান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত এবং বিবেকের সিদ্ধান্ত। দলের চাপে বা অন্য কোনো প্ররোচনায় নয়, বরং ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
কী বললেন সুশান্ত ঘোষ?
ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন সুশান্ত। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের বৈঠকের সময় আমি মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, চলো আমরা সবাই মিলে পদত্যাগ করি। ফিরহাদ হাকিম সেসময় আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন। এখন তিনি স্বীকার করবেন কি না জানি না, তবে আমার বিবেক আমাকে স্থির থাকতে দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বরো চেয়ারম্যান না হয়েও দল করেছি ২৫ বছর। পদে না থাকলেও আরও ২০ বছর দল করতে পারি। আমি তৎকাল কিংবা প্যারাস্যুট নেতা নই। তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির পিছনে আমার রক্ত-ঘাম মিশে আছে।” সুশান্তের এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরে এক গভীর অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তৃণমূলের অন্দরে কি ভাঙন?
ইস্তফার পাশাপাশি ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়েও মুখ খুলেছেন সুশান্ত। তাঁর দাবি, ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের যেসব দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল, তার অনেক জায়গাতেই দলের লোকেরাই জড়িত ছিল। যে নেতার নেতৃত্বে তাঁর ওপর আক্রমণ হয়েছিল, তাঁকেই দলের পদ দেওয়া হয়েছিল—এই তিক্ত বাস্তবতাই তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আপাতত তিনি কাউন্সিলর এবং দলের রাজ্য সম্পাদক পদে বহাল আছেন। দল ছাড়েননি, নিজেকে তৃণমূলের একজন একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবেই পরিচয় দিচ্ছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং বিজেপির সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জিরো টলারেন্স নীতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার কথা ঘোষণার পরই সুশান্ত ঘোষের এই ইস্তফা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।





