ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন নরেন্দ্র মোদী। নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ৪ হাজার ৩৯৯ দিন দায়িত্ব পালন করে তিনি ছাপিয়ে গেলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ডকেও। এই অসামান্য সাফল্যের ১২ বছর পূর্তিতে বুধবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA)-র এক বিশেষ বৈঠক।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভাসছেন মোদী। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক উষ্ণ বার্তায় মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় মোদীকে ‘অসাধারণ’, ‘বলিষ্ঠ’ এবং ‘বিচক্ষণ’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভবিষ্যতের শুভকামনা জানিয়েছেন। জবাবে মোদীও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশ পরিচালনার এই দীর্ঘ পথচলা নতুন এক নজির তৈরি করেছে। গেরুয়া শিবিরের তথ্য অনুযায়ী, জওহরলাল নেহরু ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলেও, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সেই যুক্তিতে, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটানা ৪ হাজার ৩৯৮ দিনের নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ৪ হাজার ৩৯৯ দিন পূর্ণ করে মোদী এখন ভারতের ইতিহাসে শীর্ষে। এই তালিকায় ইন্দিরা গান্ধী (৪,০৭৮ দিন), মনমোহন সিং (৩,৬৫৭ দিন), অটলবিহারী বাজপেয়ী (২,২৫৭ দিন) এবং রাজীব গান্ধী (১,৮৫৯ দিন) রয়েছেন মোদীর অনেকটা পেছনে।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে এনডিএ-র বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেসকে। দেশকে দুর্নীতির অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দলের সদস্যদের উন্নয়নের লক্ষ্যে অবিচল থাকার বার্তা দেন। বৈঠক চলাকালীন এক অন্যরকম মুহূর্তও সাক্ষী থাকল রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “এনডিএ-র বৈঠকের ফাঁকে ঝালমুড়ির বিরতি। আমাদের সব নেতাই এই জলখাবারটি দারুণ উপভোগ করেছেন!”
প্রধানমন্ত্রীর এই ১২ বছরের শাসনকালকে তুলে ধরতে মঙ্গলবার থেকে গোটা দেশে এক মাসের এক বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করেছে এনডিএ। রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, শুধুমাত্র সংখ্যার হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের কারণেই মোদীর এই দীর্ঘ শাসনকাল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজর কেড়েছে।





