নেট পরীক্ষার আবেদন কি হাতছাড়া? পোর্টালে জটিলতা আর আধারের ছবি না মেলায় দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

ইউজিসি নেট (UGC-NET) জুন ২০২৬ পর্বের আবেদন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন বহু মেধাবী চাকরিপ্রার্থী ও গবেষক। জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা এনটিএ (NTA)-র পোর্টালের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এনটিএ আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েছিল, তবুও পোর্টালে লাগাতার যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বহু শিক্ষার্থী সফলভাবে ফর্ম পূরণ করতে পারেননি।

উল্লেখ্য, ভারতের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের যোগ্যতা অর্জন এবং পিএইচডি গবেষণার জন্য জেআরএফ (JRF) পাওয়ার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি বাধ্যতামূলক। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২৩ মে এবং ভুল সংশোধনের উইন্ডো খোলা ছিল ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত। আগামী ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তের যান্ত্রিক জটিলতা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিজিলকার (Digilocker) ভেরিফিকেশন ও আধার কার্ডের জটিলতা। বর্তমানের মুখাবয়বের সঙ্গে আধার কার্ডের পুরনো ছবির মিল না থাকায় ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অসম্ভব হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইতিহাসের পরীক্ষার্থীর কথায়, “দশ বছর আগে তোলা আধার কার্ডের ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার মিল নেই। এমনকি চুল-দাড়ি ছেঁটেও মুখাবয়ব মেলানো সম্ভব হয়নি, যার ফলে ফর্ম ফিলাপ করতে পারিনি।” ওড়িশার কালাহান্ডির এক স্নাতকোত্তর পড়ুয়ার অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাবে ডিজিলকার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে গিয়ে আবেদনের সময়সীমা পার হয়ে গেছে।

পোর্টালের জটিল ইন্টারফেস ও ডিজিটাল প্রক্রিয়ার দুর্বোধ্যতা নিয়ে তুখোড় পরীক্ষার্থীরাও হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকে জানিয়েছেন, টানা তিন দিন চেষ্টা করেও ফর্ম জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা ইউজিসি কর্তৃপক্ষের কাছে পোর্টালটি পুনরায় খোলার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত গোলযোগের কারণে যেন লক্ষাধিক প্রার্থীর একাডেমিক ক্যারিয়ার নষ্ট না হয়। তবে, এই বিষয়ে ইউজিসি বা এনটিএ কর্তৃপক্ষের তরফে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষার্থীদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত আবেদন পোর্টাল না খোলা হয়, তবে বহু পড়ুয়া এবছরের মতো পরীক্ষার সুযোগ হারাবেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে সরকারি পোর্টালের এই বেহাল দশা কেন? এই প্রশ্নই এখন দেশজুড়ে দানা বাঁধছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন অনেক পরীক্ষার্থী। এখন দেখার, প্রশাসন এই মানবিক ও যান্ত্রিক সমস্যার সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy