পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ শনিবার, ৯ মে ২০২৬ (২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তী), কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড সাক্ষী হতে চলেছে এক মহাবদলের। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই মেগা ইভেন্টের রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই আজ ব্রিগেডের মাঠে সবথেকে বেশি নজর কাড়ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রিয় সেই ‘ঝালমুড়ি’।
নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝাড়গ্রামে একটি দোকানে ঢুকে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এবারের নির্বাচনে ঝালমুড়ি যেন বিজেপির বিজয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ৪ মে ফল ঘোষণার দিন যখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিজেপি ২০৭টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, সেদিনও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে ঝালমুড়ি খেয়েই এই সাফল্য উদযাপন করতে দেখা গিয়েছিল। আজ ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানে আসা হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও উপচে পড়ছে ঝালমুড়ির স্টলগুলোতে। হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা আর মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান—এই দুইয়ের মিশেলে ব্রিগেড আজ আক্ষরিক অর্থেই উৎসবের প্রাঙ্গণ।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহর। ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজকের এই ‘সুপার স্যাটারডে’র মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রায় ২০টি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। বেলা ১১টা থেকে শুরু হতে চলা এই মেগা অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও।
রাজনৈতিকভাবে এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, প্রায় ৫৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ জেলা থেকে কোনো মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামের সেই দোকানে জোর করে ঝালমুড়ির দাম মিটিয়ে যে সৌজন্য দেখিয়েছিলেন, আজ ব্রিগেডের ভিড়ে সেই গল্পই ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের মুখে মুখে। অঙ্গ এবং কলিঙ্গের পর এবার বঙ্গ জয়ের এই মুহূর্তে ঝালমুড়ি কেবল একটি খাবার নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে গেরুয়া ঝড়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।





