‘নিরাপত্তার খাতিরেই….’,-ইমামদের প্রশ্নের কড়া জবাব দিলীপ ঘোষের

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রেড রোডে আয়োজিত হতে চলেছে বিশেষ কর্মসূচি, যেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রেড রোডে মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘ সাত দিন রেড রোড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ধর্মের ইমাম ও মৌলানাদের একাংশ এই অনুষ্ঠানের জায়গা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? প্রশ্ন উঠছে, রেড রোডে নমাজ পড়ার অনুমতি নিয়ে অতীতে যেখানে বিতর্ক হয়েছে, সেখানে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য কেন জায়গা দেওয়া হচ্ছে? এই ইস্যুতে মঙ্গলবার কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

কী বললেন দিলীপ ঘোষ? সংখ্যালঘু ধর্মগুরুদের নিশানা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আগে যখন ১০৭ বছর ধরে রেড রোডে নমাজ পড়া হতো, তখন কি কোনো সংখ্যালঘু নেতা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে এত মসজিদ থাকতে কেন রেড রোড বেছে নেওয়া হচ্ছে?”

যোগ দিবসের জন্য রেড রোড বেছে নেওয়ার যুক্তি হিসেবে তিনি নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছেন। মন্ত্রীর কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সবসময় এমনভাবে হওয়া উচিত যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়। যেকোনো জায়গায় অনুষ্ঠান হলেও নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশকে চারপাশ বন্ধ রাখতেই হতো। রেড রোডে মানুষের আনাগোনা তুলনামূলক কম, তাই নিরাপত্তা প্রোটোকলের খাতিরেই এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।”

নিরাপত্তার কড়াকড়ি ও ট্র্যাফিক নির্দেশিকা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে শহরজুড়ে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি বসিয়েছে কলকাতা পুলিশ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী:

  • রেড রোড: ১৪ জুন রাত ১০টা থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সব ধরণের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

  • পণ্যবাহী গাড়ি: ২১ জুন রাত ২টো থেকে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • অবরুদ্ধ রাস্তা: এজেসি বোস রোড, সেন্ট জর্জেস গেট রোড, স্ট্র্যান্ড রোড, জওহরলাল নেহরু রোডসহ সংলগ্ন বেশ কিছু রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া হসপিটাল রোড, কুইন্সওয়ে, মেয়র রোড ও ক্যাসুয়ারিনা অ্যাভিনিউতেও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

যোগ দিবসের এই অনুষ্ঠান ঘিরে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তেমনই ট্র্যাফিক বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে কি না—সে নিয়েও তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই কড়াকড়ি একান্তই জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy