নিয়োগে নতুন যুগ! ওএমআর শিট থেকে স্বচ্ছতা, চাকরির জট কাটাতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পূর্ব রেলের উদ্যোগে কলকাতার ডঃ বিসি রায় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ১৯তম জাতীয় ‘রোজগার মেলা’য় এক নজিরবিহীন বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে ৫১,০০০ প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার এই মহতী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি রাজ্যের বেকার যুবকদের আশার আলো দেখালেন। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এবার থেকে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্যে একটি নতুন আইন আনা হবে। এই আইনের মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আগের সরকারের আমলে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এগোতে হবে। এবার থেকে প্রতিটি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি দেওয়া হবে। পরীক্ষার স্কোর সরাসরি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে কোনো লুকোছাপা না থাকে।’’

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার (ইন্টারভিউ) ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইন্টারভিউয়ে বর্তমানে যে বিপুল নম্বর রাখা থাকে, তা কমিয়ে ন্যূনতম করা হবে এবং লিখিত পরীক্ষার স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এছাড়া তফসিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST) ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) সংরক্ষণ নীতি যেন যথাযথভাবে পালন করা হয়, তা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর মতে, বিগত কয়েক বছরে বাংলার শিক্ষিত প্রজন্মের স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গিয়েছিল, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় এই নিয়োগ মেলা সেই বিশ্বাস ফেরানোর প্রথম ধাপ।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যে ৬১টি রেলওয়ে প্রকল্পের অনুমোদনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার যে সুফল বয়ে আনছে, তা এখন দৃশ্যমান। আধা-সামরিক বাহিনীসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের ধাঁচেই রাজ্য সরকার ও সরকার পোষিত সংস্থাগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ও সংস্কৃতিতে বাংলার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করাই এখন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসংস্কৃতি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শুভেন্দুবাবুর দক্ষতায় বাংলায় কর্মসংস্থানের যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তা অতীতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কলকাতা থেকে শুরু করে জেলার প্রান্তিক যুবসমাজ আজ জাতি গঠনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারছে। পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যুবসমাজকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘‘জমি জট বা প্রশাসনিক গড়িমসি—সব বাধা সরিয়ে আগামী দিনে আমরা হাই স্পিডে উন্নয়ন দৌড় শুরু করেছি। ডবল ইঞ্জিনের স্বাদ এখন পশ্চিমবঙ্গ পেতে শুরু করেছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’’

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy