নাসিকের টিসিএস (TCS) বিপিও-তে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ ও যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মহারাষ্ট্রের নাগপুরে হুবহু একই ধরনের ঘটনার হদিস মিলল। সমাজসেবার আড়ালে নারীদের ওপর ধর্মীয় রীতিনীতি চাপিয়ে দেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে রিয়াজ কাজী নামের এক এনজিও মালিককে। এই ঘটনা সামনে আসতেই নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা রাজ্যে।
NGO-র আড়ালে চলত ‘ইসলামিক ড্রেস কোড’
অভিযুক্ত রিয়াজ কাজী ‘ফিকার ফাউন্ডেশন’ এবং ‘পড়ে হাম, পড়ায়ে হাম’ নামক দুটি এনজিও চালাতেন। অভিযোগ, এই সংস্থার আড়ালে তিনি হিন্দু মহিলা কর্মীদের ওপর কঠোর ইসলামিক পোশাকবিধি চাপিয়ে দিতেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে বাধ্য করা হতো এবং নিয়মিত ধর্মান্তকরণের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। প্রতিবাদ করলে জুটত শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাব।
পুলিশি তৎপরতা ও এটিএস-এর প্রবেশ
মানকাপুর থানার পুলিশ রিয়াজ কাজীর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। থানার পরিদর্শক হরিশ কালসেকর জানিয়েছেন, সংস্থার মহিলা কর্মীদের জবানবন্দির ভিত্তিতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মহারাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন শাখা (ATS)-ও এই তদন্তে শামিল হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই এনজিও-র তহবিলের উৎস কী এবং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় কি না।
টিসিএস কাণ্ডের ছায়া নাগপুরেও
নাসিকের টিসিএস বিপিও-তে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে এই মামলার অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। নাসিকেও ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মহিলা কর্মীদের টার্গেট করে মগজধোলাই এবং জোর করে আমিষ খাবার খাওয়ানোর মতো অভিযোগ উঠেছিল। সেখানে ৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে হিন্দু দেব-দেবীদের অবমাননার বিষয়টিও রয়েছে। নাগপুরের ঘটনাটি সেই একই ‘প্যাটার্ন’ অনুসরণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে রিয়াজ কাজীর হেফাজত থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার আশায় রয়েছে প্রশাসন।





