রাজ্যে আসন্ন পুরভোট নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও, রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। একদিকে যেমন পুরভোটের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, অন্যদিকে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তুলেছেন দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ।
‘ঠক বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে’ একাধিক নেতার সাম্প্রতিক গ্রেফতারি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা তো সবে শুরু। সময় গুনতে থাকুন, ঠক বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে। রাজ্যের অন্তত এক থেকে দেড় হাজার লোককে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত, যারা অত্যন্ত অপরাধী ও লুটেরা।” মন্ত্রীর দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে শাসক দলের এই ‘লুটেরা’ অংশের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভ জমে রয়েছে। অঘটন এড়াতেই এদের গ্রেফতার করে জেলে রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফিরহাদ হাকিমকে কড়া আক্রমণ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এতদিন উনি কী করতেন? মাটিতে বসতেন নাকি ভরতের মতো খড়ম পরে পুজো করতেন? এই নাটক তো দিদির কাছ থেকেই শেখা। এখন চুপচাপ থাকাই ভালো। গত ১৫ বছর মানুষ সব দেখেছে, ইঞ্চি থেকে ফুট—সব ধরনের নেতার কথা মানুষ মনে রেখেছে।” শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষকে অবজ্ঞা করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
পুরভোট নিয়ে বড় ইঙ্গিত আগামী পুরভোট কবে হবে? এই জল্পনার মধ্যেই দিলীপ ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাসে রাজ্যের সমস্ত পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, এর ফলেই রাজ্যে উন্নয়নের নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে এবং আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ দেশের নেতৃত্বের আসনে বসবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিরোধীদের দাবি, সরকার চাপে পড়েই এখন গ্রেফতারির কথা বলছে, অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।





