মার্চ-এপ্রিল মানেই বেসরকারি সেক্টরে শুরু হয়ে যায় অ্যাপ্রেইজাল বা ইনক্রিমেন্টের (Salary Increment) টেনশন। মে-জুন মাসে কার হাতে আসবে ‘বাম্পার’ লেটার, আর কার কপালে জুটবে স্রেফ সামান্য বৃদ্ধি— তা নিয়ে এখন সরগরম কর্পোরেট পাড়া। এই আবহেই ‘জিনিয়াস এইচআরটেক’-এর একটি নতুন রিপোর্ট বেসরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।
রিপোর্টে কী বলা হয়েছে? ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে খুব একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে না সিংহভাগ কর্মীর জন্য। তবে দক্ষ এবং মিড-লেভেল পেশাদারদের জন্য রয়েছে সুখবর।
গড় বেতন বৃদ্ধি: রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশিরভাগ সংস্থার বেতন বৃদ্ধি ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বড় ইনক্রিমেন্ট: মাত্র ২৮ শতাংশ সংস্থা ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি বেতন বৃদ্ধির কথা ভাবছে।
সামান্য বৃদ্ধি: ৪৩ শতাংশ সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ইনক্রিমেন্ট ০ থেকে ৫ শতাংশের বেশি হবে না।
কারা বেশি লাভবান হবেন?
রিপোর্টে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো এবার মূলত মিড-লেভেল (Mid-level) কর্মীদের ওপর বেশি ফোকাস করছে।
মিড-সিনিয়র লেভেল: বেতন বৃদ্ধির সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন এই স্তরের কর্মীরা (প্রায় ৪৮ শতাংশ)।
জুনিয়র ও সিনিয়র লেভেল: এদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২৬ শতাংশ এবং ২২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
নতুন শ্রম কোড বা ‘লেবার কোড’-এর প্রভাব:
এই বছরের ইনক্রিমেন্টে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে চলেছে নতুন শ্রম কোড বা লেবার কোড। প্রায় ৫৭ শতাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, নতুন নিয়মের প্রভাবে বেতন কাঠামো বা স্কেলে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়বে কর্মীদের টেক-হোম স্যালারি বা ইন-হ্যান্ড বেতনের ওপর।
চাকরি ছাড়ার হড়পা বান!
বেতন নিয়ে অসন্তোষের জেরে ‘এট্রিশন রেট’ বা চাকরি ছাড়ার হার নিয়েও চিন্তায় কোম্পানিগুলো। ৫৫ শতাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, এই বছর ১০ থেকে ২০ শতাংশ কর্মী ভালো মাইনের আশায় কোম্পানি বদলাতে পারেন।
এডিটরস ভিউ: আপনি যদি মিড-লেভেলে কাজ করেন এবং আপনার পারফরম্যান্স ভালো থাকে, তবে ১০ শতাংশের বেশি ইনক্রিমেন্ট আশা করতেই পারেন। তবে নতুন শ্রম কোড কার্যকর হলে আপনার হাতে আসা বেতনের হিসাবে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, তাই আগে থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা সেরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।





