শেয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি বোঝা বরাবরই কঠিন। কিন্তু যখন ২০ বছরের অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরাও বলেন, “বাজারের তলানি কোথায় জানি না, এমনটা আগে দেখিনি,” তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। বাজাজ ফিনসার্ভ এএমসি-র চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার নিমেশ চন্দন বর্তমান বাজারের এই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং বিনিয়োগের কৌশল নিয়ে এক বিশেষ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
অতীতের স্মৃতি বনাম বর্তমানের অভিজ্ঞতা:
নিমেশ চন্দনের মতে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিফটি ৫০ সূচক যখন ২১,৮১০-এর শিখর স্পর্শ করেছিল, ২০২৬-এর মার্চে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায় সেই স্তরেই রয়েছি। অথচ অনেক শেয়ার এখনও সেই আগের উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরাও দোটানায় ভুগছেন। মার্ক টোয়েনের সেই বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “ইতিহাস হুবহু ফিরে আসে না, কিন্তু ছন্দ মিলিয়ে ফিরে আসে।”
কাহনেম্যানের ‘টু সেল্ভস’ তত্ত্ব:
কেন মানুষ মনে করে “এবারেটা ভিন্ন”? নোবেলজয়ী ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের ধারণা অনুযায়ী মানুষের দুটি সত্তা থাকে—একটি ‘নিজেকে স্মরণ করা’ (Remembering Self) এবং অন্যটি ‘নিজের অভিজ্ঞতা করা’ (Experiencing Self)।
অভিজ্ঞতা করা সত্তা: এটি বর্তমানের যন্ত্রণা, ভয় এবং অস্থিরতাকে সরাসরি অনুভব করে।
স্মরণ করা সত্তা: এটি কেবল গল্পের মতো অতীতের সুখকর সমাপ্তি বা বড় রিটার্নের কথা মনে রাখে।
বিনিয়োগকারীরা অতীতে ধসের সময় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই সময়ের ভয়ংকর উদ্বেগ আজ তাদের ‘স্মরণ করা সত্তা’ ভুলে গিয়েছে। বর্তমানে যখন বাজার পড়ছে, তখন তাদের ‘অভিজ্ঞতা করা সত্তা’ সেই ভয়কে নতুন করে অনুভব করছে, আর তাই তারা ভাবছেন এবারের পরিস্থিতি হয়তো আগের চেয়ে আলাদা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ:
নিমেশ চন্দন মনে করিয়ে দেন, যখন অন্যেরা ভীত থাকে, তখনই বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীর লোভী হওয়া উচিত। যেহেতু কেউই বাজারের একেবারে নিচের স্তর (Bottom) নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না, তাই এই অস্থিরতার সময়ে এসআইপি (SIP) বা এসটিপি (STP)-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করাই হবে বিচক্ষণতা। এতে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতার ঝুঁকি কমে এবং বাজারের চক্রাকার বৃদ্ধির সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়।





