প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু। হাতে মাত্র সাত দিন। আর ঠিক এই সন্ধিক্ষণে বঙ্গ রাজনীতির ‘এপিসেন্টার’ হয়ে উঠেছে অধিকারী গড় কাঁথি। একদিকে যখন শুভেন্দু-শিশির অধিকারীর খাসতালুকে শক্তি প্রদর্শনে নামছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তখন পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে পাল্টা হুঙ্কার ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চাঁছাছোলা ভাষায় শাসকদলকে বিঁধলেন তিনি।
‘যতবার যাবেন, ততবার হারবেন’
কাঁথিতে অভিষেকের সভা নিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “ওটা কি ভারতের বাইরে নাকি? গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ যেখানে খুশি সভা করতে পারেন। উনিও যাবেন, সভা করবেন। কিন্তু একটা কথা পরিষ্কার— যতবার যাবেন, ততবারই হারবেন।” শুধু তাই নয়, বালিতে তাঁর প্রচারে অশান্তির প্রসঙ্গে তৃণমূলকে ‘৫ টাকার গুণ্ডাবাহিনী’ বলে তোপ দাগেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল নোংরামি ও গুণ্ডামি করছে। এমনকি নাকা চেকিং নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু বিস্ফোরকভাবে বলেন, “ওঁর মাথার চিকিৎসা করানো দরকার।”
‘মাতৃশক্তি কার্ড’ নিয়ে তুঙ্গে বিবাদ
ভোটের মুখে নতুন লড়াই শুরু হয়েছে বিজেপির ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্প নিয়ে। শুভেন্দু অধিকারী ও স্মৃতি ইরানিরা মহিলাদের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে ফর্ম বিলি করছেন, তাকে ‘নির্বাচনী ঘুষ’ বলে দেগে দিয়েছে তৃণমূল। শাসকদলের অভিযোগ, ভোটারদের প্রলুব্ধ করতেই শেষ মুহূর্তে এই কৌশল নিয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং শুভেন্দু-স্মৃতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
রাজ্যের দুই হেভিওয়েট নেতার এই বাগযুদ্ধে ভোটের পারদ এখন টগবগ করে ফুটছে। একদিকে অধিকারীদের দাপট বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে কাঁথির মাটি কামড়ে পড়ে থেকে জমি পুনরুদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা তৃণমূলের— সব মিলিয়ে শেষলগ্নে জমজমাট বাংলার ভোট ময়দান।





