বিশ্বজুড়ে যখন নতুন কোনো অতিমারির আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে, ঠিক তখনই একটি ডাচ প্রমোদতরীকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র আতঙ্ক। ওই প্রমোদতরীতে রহস্যজনকভাবে তিন যাত্রীর মৃত্যুর পর আলোচনায় উঠে এসেছে ‘হান্টাভাইরাস’ (Hantavirus)। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, জাহাজটিতে অন্তত ২৩টি দেশের ১৪৯ জন যাত্রী ছিলেন এবং এটি ইতিমধ্যে ব্রাজিল, অ্যাঙ্গোলা ও স্পেনের মতো একাধিক দেশে নোঙর করেছে। ফলে এই ২৩টি দেশ এখন সংক্রমণের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
হান্টাভাইরাস আসলে কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। এটি হান্টাভাইরিডি (Hantaviridae) পরিবারের অন্তর্গত একদল ভাইরাস, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ভাইরাসটি সরাসরি মানুষের ফুসফুস এবং হৃৎপিণ্ডের ওপর আঘাত হানে, যার ফলে শ্বাসকষ্টজনিত জটিল সমস্যা তৈরি হয়।
দক্ষিণ আমেরিকায় বর্তমানে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামক এই ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট স্ট্রেইন ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে। ডব্লিউএইচও-র সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সেখানে এই ভাইরাসটি একজন আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি বছর বিশ্বে ১০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
উপসর্গ ও লক্ষণ:
ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার সাধারণত এক থেকে আট সপ্তাহ পর শরীরে লক্ষণ দেখা দেয়। প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো:
তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা।
পেশী ও শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা।
পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
পরবর্তী পর্যায়ে ফুসফুসে জল জমা এবং প্রবল শ্বাসকষ্ট।
ভারত কি ঝুঁকিতে রয়েছে?
অনেকেই এই ভাইরাসটিকে করোনাভাইরাসের সমতুল্য মনে করে আতঙ্কিত হচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ভারতের জন্য হান্টাভাইরাস কোনো বড় হুমকি নয়। এর দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা:
১. এশিয়ায় এই ভাইরাস ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়ানোর কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে গণ-সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
২. আক্রান্ত প্রমোদতরীটি ভারত থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছিল এবং ভারতের কোনো বন্দরের সাথে এর কোনো যোগাযোগ ছিল না। এমনকি ঝুঁকিতে থাকা ২৩টি দেশের ভৌগোলিক অবস্থানও ভারত থেকে অনেকটা দূরে।
তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, তবে সচেতনতাই হতে পারে এর থেকে বাঁচার প্রধান অস্ত্র।





